স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নয়-ছয় করার সুযোগ নেই। জনগণের প্রাপ্য জনগণকেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, দেশের জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছে। দীর্ঘদিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে, অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে।
শুক্রবার সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের জন্য ফ্যান, হুইল, ট্রলি, পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনা খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী মুনসী মেহেরউল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং মেলার শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন।
সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না। উন্নয়নের জন্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কিংবা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। যখন অনুদান দেওয়ার সময় এসেছে, তখন একটি কারবালা করবস্থানে এবং আরেকটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, অতীতে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিতে হতো। প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, পারিবারিক কার্ড সকলের জন্য নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না- এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। এই যশোরকে মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত করতে রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক শক্তি যত প্রভাবশালী হোক কেন, সেটি আমার নিজ দলের কেউ হলেও কোনো আপস নয়। মাদক সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের যে কর্তাব্যক্তিরা ব্যর্থ হবেন, আপনাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল এবং কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী যশোর জেনারেল হাসপাতালে একশ’ ফ্যান, দশটি করে ট্রলি ও হুইল চেয়ার, প্রতিবন্ধী কেন্দ্রে দশটি হুইল চেয়ার, আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের আধুনিকায়নের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস, ১৭৫ জনের মাঝে নগদ চার হাজার টাকা, দশ জনের মাঝে গৃহ নির্মাণের চেক, ৫০ দরিদ্র ব্যক্তির মাঝে খাদ্যসামগ্রী, তিনজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে মাঝে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্রঋণ, ছয়জন কৃষি উদ্যোক্তাকে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি প্রদান করেন।