কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দলীয় কর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে কার্যালয় থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দেন ইউএনও ফারজানা আখতার। আশ্বাস পেলেও আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণ ও নিয়োগ বাতিলের আলটিমেটাম দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।
কুমারখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি সাজেদা পারভীন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নূর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা এবং পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, তথ্য সংগ্রহের কাজের জন্য ছাত্রদলের যোগ্য কর্মী থাকলেও কৌশলে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নূর দাবি করেন, বিতর্কিত এই নিয়োগ বাতিল করে বৈষম্য দূর করতে হবে, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ের দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করুন। আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
কর্মসূচির বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু বলেন, স্বেচ্ছায় ইউএনওকে পদত্যাগ করতে হবে এবং আজকের এই বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে; অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কিত বিষয়টি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য ইউএনও-কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’