স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা পর্দার অন্তরালে এক হচ্ছে।
তাই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো সুপ্ত কিংবা গুপ্ত সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে না পারে।
মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবেও ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশকে সফল করতে এবং জুলাই আন্দোলন ও দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সহকর্মীদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে বর্তমান সরকারকে সফল করতে হবে।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে অমিত বলেন, আওয়ামী লীগ এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করে গেছে, যা নতুন রাজনীতিতে আসা কেউ কেউ মূল সংস্কৃতি মনে করছেন। কিন্তু অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, বড়দের অসম্মান করা কিংবা ফ্যাসিস্টের ভাষায় কথা বলা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের মাটির সংস্কৃতি নয় এবং বিএনপিও তা ধারণ করে না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ মহিরুহে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি রচনায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’-এই মূলমন্ত্র নিয়েই রাজনীতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অমিত বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারেক রহমানের উদ্যোগ এবং তার প্রতি জনগণের বিশ্বাস, আস্থা ও প্রত্যাশার মূল্য দেওয়ার দায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের রয়েছে। বর্তমান সরকারকে সফল করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে যে উপহার দিয়েছেন, দেড় যুগেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগ তা দিতে পারেনি।
বলেন, বিএনপি যশোরের ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজও শুরু করেছে। যশোরের উন্নয়নের চাহিদা বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পূরণ করবে বলে তিনি দাবি করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
র্যালিটি মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে বের হয়ে দড়াটানা, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা মোড়, জেল রোড ও চভোলাট্যাংক রোড হয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা, নগর, উপজেলা ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সালাম আজাদ, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মুকুল, মারুফুল ইসলাম, নগর সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মকবুল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহনেওয়াজ ইমরান।