যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঝিনাইদহে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ঝিনাইদহে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষকেরা। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার পেতেও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার পয়েন্টে সার না মিললেও বেশি দাম দিলে খোলাবাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।

সকালে স্থানীয় কৃষকেরা গাড়াগঞ্জ পুরনো বাজারের ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে যান। এ সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গাছের গুঁড়ি ফেলে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়ক অবরোধ করেন।

এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলার ও সাব-ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ইউরিয়া সার নিতে গেলে অপ্রয়োজনীয় অন্য সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তাদের দাবি, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়ার সরকারি মূল্য এক হাজার ৩৫০ টাকা হলেও খোলা বাজারে তা এক হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একইভাবে এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি দুই হাজার ১০০ টাকা এবং এক হাজার ৫০ টাকার ডিএপি এক হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানভেদে দামে কিছুটা কমবেশি রয়েছে।

সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাব-ডিলার পয়েন্টে গেলে এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হচ্ছে। সার পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

কিন্তু বেশি টাকা দিলে খোলাবাজারে সারের অভাব নেই। তার অভিযোগ, ডিলাররা গোপনে খোলাবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসাইন বলেন, এক বস্তা সার প্রয়োজন হলেও স্থানীয় ডিলারের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০ কেজি ইউরিয়া।

সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষক বকুল হোসেন বলেন, তার ১৬ বিঘা ধানের আবাদ রয়েছে। ন্যূনতম দশ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র চার বস্তা।

মালিয়াট গ্রামের কৃষক সুমন হোসেনের অভিযোগ, ৫০ কেজি সার প্রয়োজন হলেও ডিলার ও সাব-ডিলারের কাছ থেকে মিলছে মাত্র ২০ কেজি। অথচ পাশের খুচরা দোকানে চড়া দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষকদের হয়রানির অভিযোগের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, একই ব্যক্তি বারবার সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন- এমন আশঙ্কায় জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি আনা হয়েছিল।

তবে কৃষকদের হয়রানি বিবেচনায় এখন ডিলারদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফলে সার নিতে আর জাতীয় পরিচয়পত্র আনার প্রয়োজন হবে না।

তবে কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই।

কালীগঞ্জ বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, আগস্টে ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে ৮৯ শতাংশ ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে চাহিদা রয়েছে দশ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনও বলেন, জেলায় সারের সংকট নেই, অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)