বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে 'খুনি হাসিনা' ও 'হাসিনা ভুয়া' লেখা মুছে 'জয় বাংলা' লিখে দিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা এই কাজ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেরাই দাবি করছেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা মঙ্গলবার রাত থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিতে থাকেন, যা নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এ বিষয়ে ‘কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেছেন উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিকেলে স্থানীয় জুলাইযোদ্ধারা উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটের দক্ষিণ পাশে লাল কালি দিয়ে 'খুনি হাসিনা' এবং উত্তর পাশে 'হাসিনা ভুয়া' লিখে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও এ লেখা দুটি অক্ষত ছিল। গত সোমবার গভীর রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গেটের দুই পাশের 'হাসিনা' শব্দটি অপরিবর্তিত রেখে 'ভুয়া' ও 'খুনি' লেখা কেটে তার ওপর দিয়ে কালো কালিতে 'জয় বাংলা' লিখে দেযন।
বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা জানেন না কেউ। তবে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমডি সাগর হুসাইন সাগর তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। এতে লিখেছেন, ‘‘যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজীর নির্দেশনায় এবং বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন ভাইয়ের নেতৃত্বে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ গেটে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অপসারণ করা হয়েছে। তার পরিবর্তে স্থাপন করা হয়েছে আমাদের প্রাণের স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’’
ফেসবুক পেজে এমডি সাগর একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি হেলমেট পরে রঙ স্প্রে করে ‘ভুয়া’ ও ‘খুনি’ শব্দ দুটি কেটে ‘জয় বাংলা’ লিখছেন এবং অন্য একজন তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। এ পোস্টটি আবার যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজী তার নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন।
বাঘারপাড়া থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছন, এ বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।