স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুসহ রেল অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি চিঠি দিয়েছেন।
তার এ উদ্যোগকে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাবনার খবরে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে এমপি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উল্লেখ করেছেন, যশোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
এখানে যশোর বিমানবন্দর, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন, বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তর, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল অবস্থিত।
এছাড়া, দেশের একমাত্র ফুলের রাজধানী গদখালিও যশোরে অবস্থিত। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের জন্য বর্তমান ট্রেনসেবা পর্যাপ্ত নয় বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের শুরুতে যশোর সদরকে বাদ দেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।
পরে ঢাকা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনসংখ্যা এখনও কম। এ কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চিঠিতে তিনি ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানান।
পাশাপাশি দর্শনা থেকে যশোর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, ঢাকা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল বা দর্শনা রুটে লোকাল ট্রেন চালু, দর্শনা-খুলনা রেলপথ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং যশোরে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের প্রস্তাবও দেন।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যশোর শহরের ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘যশোর থেকে ঢাকায় যাতায়াতে প্রতিদিনই প্রচুর চাপ থাকে। নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
এমপি অমিত সাহেবের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী শ্রাবণী রায় বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের নিয়মিত ঢাকায় যেতে হয়। টিকিট সংকটের কারণে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নতুন ট্রেন চালু হলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হবে’।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ‘বেনাপোল দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নতুন ট্রেন চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে’।
স্থানীয়রা মনে করছেন, যশোর অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু ও রেল অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।