খুলনা অফিস
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে আরও সুসংহত করতে বিচারালয়কে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এ জন্য আইনজীবীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত যোগ্যতার মান আরও উন্নত করতে হবে। সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিচারকদের আইন প্রণয়ন, বদলি বা পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ চাই। আওয়ামীলীগ সরকার যে দেশ রেখে গিয়েছিলো তা থেকে ফিরিয়ে আনতে হাজারো মানুষকে আহত ও প্রাণ দিতে হয়েছে, জেল খাটতে হয়েছে। আমরা এই অবস্থার উত্তরণ চাই।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের একটি বড় বিতর্ক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
তবে দেশের স্বার্থে বিএনপি কিছু বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বারের উন্নয়ন, বিচারক ও আইনজীবীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান আইনমন্ত্রী।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অতি শিগগিরই দেশের সব জেলা বারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিজ্ঞ বিচারক গড়ে তুলতে হলে আগে বিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবী তৈরি করতে হবে হলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৭৪ জন নবীন আইনজীবী নতুন করে যোগদান করছেন খুলনা বারে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আমীর এজাজ খান এমপি, অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল এমপি, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।
সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদ। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু।
এর আগে তিনি খুলনা জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।