স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেছেন যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বাদ আসর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সম্মিলিত দোয়া- মোনাজাতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
তার সুস্থতা কামনায় মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনিতে গোটাএলাকা মুখরিত হয়। প্রথমে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আসরের আজান এবং পরে জামাতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
জেলা বিএনপি সম্মিলিত দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে।
গণতন্ত্রের মাতার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, ওয়ালামা মাশায়েখ, ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বিকেল ৪টায় মিনিটে নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে তিনটার আগ থেকেই মুসল্লিরা ঈদগাহে সমবেত হতে শুরু করেন। আসরের নামাজের জামাতের ইমামতি করেন জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল মান্নান।
মোনাজাতপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর -৩ ( সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি তার আপোসহীনতা দেখিয়েছেন। সেকারণে তিনি দলের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতির অভিভাবক হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। দেশমাতার অসুস্থতার কারণে সমগ্র দেশবাসী দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশের মতো যশোরের উন্নয়নেও কাজ করেছেন। যশোরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত, সকল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ৫০ শয্যায় উন্নীত কিংবা যশোর মেডিকেল কলেজ সবকিছু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া। শিক্ষাক্ষেত্রে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, যশোর সরকারি এমএম কলেজে, সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজে ভবন নির্মাণসহ একাধিক বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু, উশহর মহিলা কলেজ, ডিগ্রি কলেজ, যশোর কলেজসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির পেছনে বেগম খালেদা জিয়া হাতের ছোঁয়া আছে। আমার প্রয়াত বাবা তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল যশোরের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। সেই আকাশচুম্বি স্বপ্ন বেগম খালেদা জিয়া বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। যশোরের প্রতিটি মহাসড়ক থেকে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন থেকে শুরু করে আন্তঃ ইউনিয়ন সড়ক তৈরিতেও তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। সমগ্র দেশ আজ গণতন্ত্রের মাতার জন্য দোয়া এবং প্রার্থনারত। আল্লাহ জনগণের দোয়ায় তাকে সুস্থ করে জনগণের কাতারে ফিরিয়ে দেবেন।’
পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী।
এতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, অ্যাড. মোহাম্মদ ইসহক, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মকুল, সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির ইসমাইল হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব মুফতি ফিরোজ শাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজামুদ্দিন অমিত, জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোর জেলা শাখার সমন্বয়ক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদের, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবু আহসান লাল্টু, জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, জেলা ইমাম পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, জেলা ফতোয়া বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এজাজী, দড়াটানা জামে মসজিদের ইমাম খতিব মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এইচ আর তুহিন প্রমুখ।