যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পাইকগাছায় বেড়েছে পাট চাষ

এম জালাল উদ্দীন

, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন,২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন,২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
পাইকগাছায় বেড়েছে পাট চাষ

চলতি মৌসুমে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো। অনুকূল আবহাওয়া, সরকারি প্রণোদনা এবং বাজারে পাটের সন্তোষজনক মূল্য কৃষকদের পাট চাষে আরও উৎসাহিত করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাটক্ষেতগুলো সবুজে ভরে উঠেছে। আগাম আবাদ করা অনেক ক্ষেতের পাট ইতোমধ্যে ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। কৃষকরা বর্তমানে পাটক্ষেতের পরিচর্যা ও আগাছা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় ২৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের ২৫২ হেক্টরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উপজেলার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

হিতামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, পাট বোনার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। আবহাওয়া এমন থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।

তবে পাট চাষে কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা। কৃষক সামাদ মোড়ল বলেন, পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডোবা ও জলাশয় দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে একই জায়গায় বারবার পাট জাগ দিতে হয়। এতে সময়মতো জাগ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আঁশের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আর্থিক লোকসান গুনতে হয়।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বপন মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাত পাট চাষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কৃষকদের সার্বক্ষণিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পাট উৎপাদন হবে এবং কৃষকরা পাটের আঁশ ও পাটকাঠি বিক্রি করে ভালো লাভবান হবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

একসময় দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত পাটকে ঘিরে পাইকগাছার কৃষকদের মাঝে আবারও ফিরে এসেছে আশাবাদ। সোনালি আঁশের এই ফসলকে কেন্দ্র করে তারা দেখছেন সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)