সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বাঘমারা এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী মীর হামিদুরের অবস্থা গুরুতর। তাকে প্রথমে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী আমান উল্লাহ মুয়াজকেও মারধর করা হয়; পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম (বিডিএস-১৪ ব্যাচ) নামে এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে হামিদুর মুয়াজকে আঘাত করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীতে হামিদুর চা পান করতে বাইরে গেলে মুয়াজ একটি স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে হামিদুরের সহযোগীরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে মুয়াজকে উদ্ধারে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আরো কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর ছাত্রাবাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. ইসহাক জানান, আহত হামিদুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষে জড়িতরা সবাই ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া কক্ষের ভেতর আটকে থাকা আমান উল্লাহ মুয়াজকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।