বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ইছামতীর পাড়ে গিয়ে দেখলেন, এক অভাবনীয় দৃশ্য। সেখানে পড়ে আছে বস্ত্রহীন এক নবজাতক। তার পাশেই ক্লান্ত, অসহায় এক নারী। পরে জানা গেলো, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
এই অভূতপূর্ব ঘটনা বুধবার সকালের, যশোরের বেনাপোল সীমান্তঘেঁষা গাজীপুর ও নামাজ গ্রামের মাঝামাঝি জায়গায় নদীর ধারের।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন কালু ও তার স্ত্রী নারগিস বেগম প্রথমে শিশুটিকে দেখতে পান। মানবিকতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তারা কোলে তুলে নেন শিশুটিকে। কাপড়ে জড়িয়ে উষ্ণতা ও প্রাথমিক সেবা দেন। পরে খবর পৌঁছে যায় বেনাপোল পৌরসভায়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে যান শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডা. কাজী নাজিব হাসান। তিনি নবজাতকের সুস্থতা যাচাই করে শিশুটির জন্য খাবার, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেন।
ইউএনও জানিয়েছেন, শিশুটিকে আপাতত উদ্ধারকারী পরিবারের হেফাজতে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শিশুটি এখন সুস্থ। প্রশাসনের মনিটরিং ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পরে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মানিক কুমার সাহা বলেন, স্থানীয়রা সাহস ও মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। শিশুটি নিরাপদে আছে। ঘটনাটি নথিভুক্ত করেছি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধারকৃত শিশু বর্তমানে আলী হোসেন কালু দম্পতির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুটিকে ঘিরে গ্রামের মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে গভীর মমতা আর ভালোবাসা। আর শিশুটির মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।
উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. তহিদ, বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (৯২৫) সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (৮৯১) সাধারণ সম্পাদক মো. লিটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা।