জেলা প্রশাসনের রেজুলেশন নিয়ে প্রশ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের রেজুলেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার ভাতিজা হাফিজুর রহমান। ২২ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার একদিন পর ২৩ জুলাই হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
পোস্টে হাফিজুর লেখেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ভাস্কর্য স্থাপনে রেজুলেশনে সঠিক তথ্য গোপন করা হয়েছে। গতকালেরর মিটিংএ সিন্ধান্ত হলো ভাস্কর্য হবে দুইটা ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে হামিদুর রহমান চত্বরে আর একটি হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। তবে কোথায় হবে এর কোন জায়গা নির্ধারণ করা হয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন জায়গায় নতুন করে নির্মাণের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা আগের জায়গাতেই ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবিতে লিখিত আবেদন দেন ।’
যদিও রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাস্কর্যটি উপযুক্ত স্থানে স্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার।
পোস্টের শেষাংশে হাফিজুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে এত কাহিনি করার কী আছে? প্রশাসন বললেই পারতো, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ঝিনাইদহ শহরে হবে না।’
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তিনি ‘সঠিক তথ্য গোপন করা হয়েছে’ বলে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ভাস্কর্য ভাঙা ও অপসারণ বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে এবার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার ভাতিজা হাফিজুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, 'ফেসবুকে কে কী বললো সেটা মূল্যায়ন করছি না। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে আমরা সঠিক মর্যাদা দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা, হামিদুর রহমানের স্বজনসহ ১৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটির প্রস্তাবনাতে জায়গা নির্বাচন করা হবে। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য তৈরি করা হবে। এটা নিয়ে বির্তকের কিছু নেই।'
হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘মিটিংয়ে আমাদের পরিবারের দাবি ছিল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য যেখানে ছিল, সেখানেই পুনঃস্থাপন করতে হবে। এবং সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল ছয় লেন সড়কের ইন্টারসেকশনের কাজ শেষ হলে সেখানেই ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে এবং আপাতত স্থানটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ হিসেবে সাইনবোর্ডের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে। আর বর্তমানে সবাই শ্রদ্ধা জানাতে পারে এজন্য একটি ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের কমিটি করা হয়। কিন্তু রেজুলেশনে সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে শুধু লেখা হয়েছে, ‘পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’’
‘এতে ভবিষ্যতে ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে। আমাদের দাবি, রেজুলেশনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে, সড়কের কাজ শেষ হলে টার্মিনাল এলাকাতেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। রেজুলেশন সঠিকভাবে করা হয়নি, এজন্যই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া।’