যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘জিন্নাহসহ ঐতিহাসিক নেতাদের সুবিধামতো ব্যবহার করা হচ্ছে’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:০৬ এ এম
‘জিন্নাহসহ ঐতিহাসিক নেতাদের সুবিধামতো ব্যবহার করা হচ্ছে’

জিন্নাহসহ ঐতিহাসিক নেতাদের সুবিধামতো ব্যবহার এবং সস্তা দলবাজির মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে বিকৃত করার প্রবণতা রয়েছে অনেক। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্য ভুলে কাদা-ছোড়াছুড়িতে অর্জিত সাফল্যকে ব্যর্থ করছে। এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিশ্লেষক, লেখক, কলামিস্ট এবং সমাজচিন্তক ফাহাম আব্দুস সালাম। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য তার বিশ্লেষণটি তুলে ধরা হলো:

যার যতোটুকু দরকার - জিনাহ সাহেবের ঠিক ততোটুকু বলবে। বাকিটা কনভেনিয়েন্টলি গাপ করে দিবে। সবাইই তাই করছে। জামাত বলবে জিনাহ সাহেব না থাকলে পাকিস্তান হতো না (নির্ভেজাল সত্য)। এক এমপি সাহেব আবার বলছে জিনাহ সাহেব না হলে সে বাংলাদেশের এমপিও হতে পারত না। মানুষ এতো পরাজয়বাদী কীভাবে হয় - আল্লাহই জানে? কোথায় আপনার প্রাইড? আমার তো মনে হয় কিছুই আমারে আটকাইতে পারত না। কোনো না কোনো রাস্তা আমি বের করতামই - আল্লাহ ভরসা। এরা নিজেদের এতো সামান্য (~ফাতনা) কেন মনে করে আমি বুঝি না। অন্তত এটা যে বলেন নাই যে - জিনাহ না থাকলে আমার বাবা কন্ডোম ব্যবহার করতো আর আমি দুনিয়াতেই আসতাম না - এতটুকুতেই আমি খুশি। নিজের ওপর একটু বিশ্বাস রাখেন ভাই। পিঁপড়ার চেয়েও ছোট লাগে।

জামাত এটা বলে না যে জিনাহ সাহেব চেয়েছিলেন মুসলমানদের জন্য সেকুলার স্টেট। এটা বলে না যে তাদের দল সেই সময়ে জিনাহ তথা পাকিস্তান আদর্শের বিরোধী রাজনীতি করতো। এটা বলে না যে তার দলের নেতাকর্মীরা সব দিক থেকে জিনাহর পোলার অপোজিট। এটা বলে না যে জিনাহ সাহেবের দ্বিজাতিতত্ত্বের ফাংশনালিটি ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানীরাই ধ্বংস করেছে - যখন তারা নিজেদের নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালায়। এবং জামাত হচ্ছে সেই দল - যারা পাকিস্তানীদের এই বিট্রেয়ালকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছে।

আবার বাংলাদেশের সেকুলাররা রাষ্ট্রভাষা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য জিনাহ সাহেবকে অভিযোগ করে। কিন্তু এটা বলে না যে তিনি ঐ ভাষণেই বলেছিলেন যে প্রাদেশিক সরকার ঠিক করবে এই প্রদেশের (পূর্ব বাংলা) দাপ্তরিক ভাষা কী হবে। পাকিস্তানের এক প্রদেশের সাথে আরেক প্রদেশের দাপ্তরিক যোগাযোগের ভাষা কী হবে - এটা তো একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ১৯৪৮ সালে যেকোনো ৭৩ আইকিউ ঊর্ধ্ব মানুষ বলতো যে কন্টেন্ডার দুইটি ভাষা: ইংরেজি আর উর্দু। বাংলা, পাঞ্জাবি কিংবা পশতু এতই রিজিওনাল যে গাণ্ডু না হলে এই তিন ভাষাকে সমগ্র পাকিস্তানের লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসাবে কল্পনা করা কঠিন। যা একচুয়ালি হয়েছিল এবং যা হওয়া উচিত ছিল - সেটা ইংরেজিকে কার্যত রাষ্ট্রভাষা করা। সবচেয়ে বড় কথা - "রাষ্ট্র ভাষা" এই শব্দদ্বয় কোনোভাবেই ব্যবহার না করা। জিনাহ সাহেব যদি "স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ" না বলে "ল্যাঙ্গুয়েজ অফ অফিশিয়াল কমিউনিকেশন" বলতেন - আমি নিশ্চিত কেউ আন্দোলন করতো না। কিন্তু জিনাহ সাহেব একজন রাজনীতিবিদ যিনি দু'শ বছরের কলোনিয়াল মাস্টারকে খেদায় - আউট অফ নো ওয়ের - একটা নতুন রাষ্ট্র পত্তন করেছেন (অবশ্যই উইথ দা হেল্প অফ মেনি)। এবং শেষ ১০ বছর ধরে সার্বক্ষণিকভাবে বলছেন যে মুসলমানরা আলাদা একটা জাতি। তিনি কীভাবে বলবেন যে কলোনিয়াল মাস্টারদের ভাষাই হবে মুসলমানদের রাষ্ট্রভাষা? খেয়াল করেন যে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করতে চাওয়ায় আপত্তি এসেছে শুধু পূর্ব বাংলা থেকে। ইংরেজিকে রাষ্ট্র ভাষা করতে চাইলে আপত্তি আসতো সব প্রদেশ থেকে। বলত, গত ২শ বছর কি আমরা বাল ফালাইছি যে ইংরেজদের ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করবো?

আমি এক বালের লেখক। ৫ই অগাস্টের তিন মাস পর বলেছিলাম "আমি জানি না ইসকন কী করে? হয়তো ভালো কিছুই তারা করতে চায় কারণ সব মেজর ধর্মই মানুষের জন্য ভালো কিছুই করতে চেয়েছে" - লক্ষ লক্ষ মানুষ আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই কথাই তখন নিতে পারে নাই। উড়িম্মা সে কি জজবা - লোম খাড়া হয়ে যায়! জিনাহ সাহেব ঢাকায় এসেছিলেন আমাদের স্বাধীনতার ৬ মাস পর। তিনি যদি ইংরেজির কথা বলতেন - কী হত একবার চিন্তা করুন।

না, সেকুলাররা এটা বলে না। এও বলে না যে জিনাহ সাহেব হলেন এই অঞ্চলের প্রথম ফোটোকার্ড জার্নালিজমের শিকার রাজনীতিবিদ। তার পুরা ভাষণটা শুনে নিয়েন। এরকম প্রোগ্রেসিভ, লিব্রেল এবং নো-ননসেন্স লীডার ভারতবর্ষে বিরল। পুরা ভাষণ থেকে শুধু একটা বাক্য তুলে দিয়ে ফোটোকার্ড বানানোর যে আধুনিক জামাতি স্পেশালাইজেশান - তার প্রাচীনতম ভিকটিম হলেন জিনাহ। এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদীরাই এই কাজটা করেছে।

বাস্তবতা হলো জিনাহ সাহেব ডীপলি কনফ্লিক্টেড একজন রাজনৈতিক নেতা - অন্য যেকোনো মহান নেতার মতন। ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করা একটা হাস্যকর আইডিয়া। কিন্তু উপমহাদেশের বেশিরভাগ মানুষ হাস্যকর। তাদের মধ্যে অনার নাই, নাই সহমর্মিতা, নাই ইন্টেগ্রিটি। আছে শুধু ঘোট পাকানো আর গুটিবাজি করার ধান্দা। এই প্রেক্ষাপটে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের দাপটে মুসলমানদের যে দুর্দশা হতো - সেই সম্ভাবনা দেখে জিনাহ সাহেবের জন্য দ্বিজাতিতত্ত্ব সামনে আনা কোনো ভুল পদক্ষেপ ছিল না। মুসলমানদের জন্য সেকুলার রাষ্ট্রও একটা প্রোগ্রেসিভ আইডিয়াই ছিল - সেটা যতই স্ববিরোধী হোক। রাষ্ট্র জিনিসটাই হলো স্ববিরোধিতা দিয়ে বানানো বাগান।

বাংলাদেশী মুসলমানদের জন্য এটা কল্পনা করাও কঠিন যে জিনাহ এবং নেহরু - উভয়ই আলাদা আলাদা কারণে গ্রেট লীডার ছিলেন। উভয়ই নিজের দেশের মানুষদের জন্য মহান রাষ্ট্র তৈরী করতে চেয়েছিলেন। জিনাহ সাহেবের আদর্শ বেশি ফেইল করেছে কারণ তার দেশের নাগরিকরা - উভয় দিকেই ছিল নালায়েক। আমরা কম নালায়েক কারণ শত বাধার পরেও বাংলাদেশিদের মধ্যে একটা ইন বিল্ট ডেল্টা রিয়ালিজম বা Edge-of-the-cliff pragmatism আছে যে কারণে আমরা বারবার গণতন্ত্রের দিকে ফিরে আসি। আমরা ফাক আপ করি আবার আমরা এও বুঝি যে এর চেয়ে বেশি ফাক আপ করলে আম-ছালা সব যাবে। কারণ আমরা ৫ মাস বন্যা দেখা জনপদ। পাকিস্তানীরা একেবারেই নালায়েক কারণ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটা আল্টিমেটলি মুসলমানদের জন্য হয় নাই - হয়েছে মিলিট্ৰির জন্যে। পুরা দেশটাই ধ্বংসমুখ। অমিত সম্ভাবনার মানুষ ও মাটি নিয়ে তৈরী হওয়া ধ্বংসপ্রিয় এক জাতি। কিন্তু তার মানে এই না যে জিনাহ সাহেবের আদর্শ ইনহেরেন্টলি ভুল ছিল।

চিন্তার এই সফিস্টিকেশান আমাদের মধ্যে নাই। থাকলেও কোনো লাভ হতো না। কারণ আমরা জিনাহ, গান্ধী, শেরেবাংলা, মওলানা, জিয়া - কাওকেই আসলে সম্মান করি না। সম্মান করা একটা আলাদা ক্ষমতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মধ্যে এই ক্ষমতাটাই নাই। আমরা যা পারি এবং করি - সেটা হলো দল পাকানো। এখন একদল মনে করছে জিনাহকে গ্লোরিফাই করলে ওনেক সুন্দর ঘোট পাকানো যাবে - তাই তাকে নিয়ে মাতামাতি করছে। আরেক দল মনে করছে যে জিনাহকে গালি দিলে ফায়দা - তাই তার ছবি ভাঙছে। কারণ কিন্তু একটাই: ট্রাইবলিজম। বইঙ্গা ভালোও বাসতে পারে না - ঘৃণাও করতে পারে না। এটাই রিয়ালিটি। আপনি কোনো মানুষকে সম্মান করেন কি না - তার একটা সহজ পরীক্ষা আছে। সেই মানুষটার যে এসেন্স - তার প্রতিফলন নিজের মধ্যে আনার একটার কনশাস চেষ্টা থাকতে হবে। আপনি বলেন যে মেয়েদের আমি প্ৰছোণ্ড সম্মান করি - কিন্তু কারেন্ট চলে গেলেই পাছার মধ্যে টিপি দেই - সরি ভাই! আপনি কাওকেই সম্মান করেন না। আপনি শুধু ভান করেন।

লেনাদেনা নাই বা প্রত্যাঘাতের সম্ভাবনা নাই এমন কাওকে সম্মান করার গিয়ারটাই আমাদের নাই। একটা কাল্টিভেটেড ইনোসেন্সের বাই প্রোডাক্ট হলো "সম্মান"। এটা এই দেশে নাই। গরিব চিন্তার মানুষেরা সম্মান করতে পারে না; পারে অধীনস্ততা। আপনারা যারা জিনাহ সাহেবকে সম্প্রতি মাথায় উঠিয়েছেন এবং যারা তার ছবি পাড়াচ্ছেন - উভয়ই উইক পিপল। সরি টু সে। আশি বছর আগে মারা যাওয়া একজন রাজনীতিবিদের ছবি পাড়ানো - আসলে বলে যে য়ু আর ইমবেসাইলস।

আজকে ঠিক তাইই হচ্ছে। এনসিপির নেতারা ইন্টেরিমকে ছিড়ে খাচ্ছে। বিএনপি সরকার, এনসিপির নেতাদের চোর প্রমাণ করার জন্য কাছা বেঁধে নেমেছে। আর জামাত তো মাশাল্লাহ বিএনপিকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য পারলে আওয়ামী লীগকেও ডেকে আনবে। আমি একটাই প্রশ্ন করি: ওয়ের ইজ য়োর অনার? আমরা সবাই কি এক সাথে রাস্তায় নামি নাই - ফ্যাশিস্টদের তাড়ানোর জন্য? কোথায় আপনাদের ভাতৃত্ববোধ? কীভাবে আপনারা নিজেদের এতো ছোট করেন? সরকারি পদে বসে কীভাবে আপনারা শব্দবোমার কারখানা খুলে বসেছেন? কেন আপনারা মনে করেন যে য়েন্দায়ুন্দি না করলে আপনাদের কোনো ভবিষ্যৎ নাই? লাইক-শেয়ারের জন্য আর ভায়রাল হওয়ার নেশায় আমাদের গ্লোরিয়াস অর্জনকে আপনারা ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন। অল অফ য়ু। দলবাজি করার জন্যে আপনারা ভুলেই গেছেন যে ১৭ বছর আল্লাহ আমাদের জিল্লতের মধ্যে রাখছে - আগামী ১৭ বছরও রাখবেন যদি এই ফকিন্নিপনা থেকে আমরা বের না হতে পারি। আপনারা এমন একটা পাট নিচ্ছেন যেন আওয়ামী লীগ বলে কেউ ছিল না - যেন আমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।

এই মানসিকতার মানুষেরা যখন জিনাহ সাহেবকে বা যেকোনো নেতাকেই ভীষণ সম্মান করেন বলে বিজ্ঞাপন করে - আমার হাসি লাগে। য়ু ডোন্ট নো ওয়াট য়ু ডোন্ট হ্যাভ। আপনাদের মধ্যে আছে এক বিকট ক্যাথার্সিস - একসাথে-প্রচুর-পায়খানেচ্ছা। বেগ বেশি বলে এইটাকে আপনারা প্রায়ই "শুদ্ধতা" বলে গুলিয়ে ফেলেন

 

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)