যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

'অখণ্ড ভারতে' নাপাক; টুরিস্ট ভিসায় পাক সামান্য ঠাঁই

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুলাই,২০২৬, ০৮:৪০ এ এম
আপডেট : রবিবার, ৫ জুলাই,২০২৬, ০৩:২১ পিএম
'অখণ্ড ভারতে' নাপাক; টুরিস্ট ভিসায় পাক সামান্য ঠাঁই

শিক্ষক, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসকাওয়াথ আহসান শীর্ষস্থানীয় স্যাটায়ারিস্টও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিয়মিত তির্যক লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। দু’দিন আগে ফেসবুকে প্রকাশিত তার এই স্যাটায়ারটি সুবর্ণভূমি পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:

অভিলাষী মন 'অখণ্ড ভারতে' না পাক; টুরিস্ট ভিসায় পাক সামান্য ঠাঁই

ইন্ডিয়া টুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করলে ফেসবুকের মন খারাপের হাওয়াটা কমে আসবে। দিল্লির ভিসা দেয়া বন্ধ করাটা ছিলো একটা অপরিণত প্রতিক্রিয়া। হাসিনার পতনে ইন্ডিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার বাংলাদেশে তার প্রতিপত্তি হারিয়েছে; এই হতাশা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত ছিলো। নাগরিকদের যাতায়াত কখনো বন্ধ করতে নেই। নাগরিক পর্যায়ের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিকশিত হতে দেয়া উচিত। উভয় দেশের মানুষের আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব উভয় দেশে বসবাস করে। তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলাটা অগণতান্ত্রিক আচরণ।

তা ছাড়া ফ্যসিস্ট পতনের পর; পতিত আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে গেছে। তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা প্রায় দুই বছর হলো স্বামী ও পিতার দেখা পায়নি। ইন্ডিয়ান ভিসা চালুর ফলে ফ্যামিলি রিইউনিয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ফেসবুকে লীগ বিরহিনীদের রাত জাগা দীর্ঘশ্বাস, আগেই ভালো ছিলাম; বেশ কিছুটা কমে আসবে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের ব্যবসা বানিজ্যের দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমলে ভারতে ও কারাগারে থেকে অনেক বিএনপি-জামায়াত নেতার সম্পদ যেমন বহুগুন বেড়েছে; ভারতে ও কারাগারে থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদও তেমনি বহুগুন বাড়বে। এই ভিসা চালু হলে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা অতি সহজেই তাদের পলাতক ব্যবসায়িক অংশীদার আওয়ামী লীগ নেতাকে ব্যবসার লভ্যাংশ পৌঁছে দিতে পারবে। এতে পলাতক আওয়ামী নেতারা একটু শান সৌকতে ইন্ডিয়ায় থাকতে পারবে।

দুই বছরের অদেখায় হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির তীর্থভূমি কলকাতা পরিদর্শন করতে পারেনি; বিশুদ্ধ বাঙালি সমাজ। ইন্ডিয়ান ভিসা চালু হলে আবার জোড়াসাঁকো ও শান্তিনিকেতনে চেক ইন দিয়ে ললিতা দিদি ও শিবব্রতদাদা কিছু ছবি আপলোড করে নয়ন জলে ভাসতে পারবে। বিশুদ্ধ বাঙালিসত্ত্বা নবায়নের উপলক্ষ হয়ে উঠবে এই নান্দনিক ভ্রমণ।

বুবুর বিদায়ে চুপসে যাওয়া কবি সাহিত্যিক ইন্টেরিম গভমেন্টের দেড় বছরের আত্মগোপনে লেখা 'আনা ফ্রাংকের ডায়েরি'-র প্রকাশক খুঁজতে পারবে কলকাতায়। ময়ূখরঞ্জন ঘোষের রিপাবলিক বাংলা টিভিতে 'চেহারা দেখাতে অনিচ্ছুক' প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছায়ামূর্তির ইন্টারভিউ দিতে পারবে। চন্দন নন্দীর কাছে, ইসলামাইজেশন অফ বাংলাদেশ' নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেখে আসতে পারবে।

শরিয়ত ও রাবেয়া আপা উত্তর প্রদেশ ভ্রমণ করে 'খিলাফতের ফজিলত' সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান আহরণ করতে পারবে। যে দর্জির দোকানে একইসঙ্গে জয় শ্রীরাম লেখা গেরুয়া পতাকা ও কলেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা তৈরি হয়; সেখানে পতাকা সেলাই শিখতে পারবে শিবব্রত ও শরিয়ত। কিভাবে শিবব্রত জয় শ্রীরাম পতাকা উড়ালে শরিয়ত দৃঢ় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে; আবার শরিয়ত কলেমা খচিত পতাকা উড়ালে শিবব্রত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে; সে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে 'ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ' গ্রন্থের লেখক দীপ হালদারের কোচিং সেন্টারে।

আর রয়েছে সাধারণ নাগরিক; যারা অল্প খরচে কলকাতা-দার্জিলিং সম্ভব হলে লাদাখ দেখতে পারবে। সঙ্গে হার্টে দুটি রিং পরানো, পিত্তথলির পাথর গলানো, হাঁপানির ব্যামোর চিকিতসা করিয়ে আসতে পারবে। কলকাতার দোকান, আবাসিক হোটেল , খাবার হোটেলে প্রাণ ফিরে আসবে হেলথ টুরিজমের নতুন ঢেউয়ে। শুভেন্দুর হিন্দুত্ববাদী লোকেরা বুকে পাথর চাপা দিয়ে এসব সোনার ডিম দেয়া মুছুম্মানকে মেনে নেবে।

দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্থান-পতন-মিলন-বিচ্ছেদ-শীতলতা-বন্ধুত্ব ও শত্রুতা থাকে। কিন্তু দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাভাবিক যাতায়াত ও যোগাযোগ সভ্যতার সেতুবন্ধ রচনা করে। ক্ষমতা কাঠামোর অসভ্যতা যেন ভবিষ্যতে এই নাগরিক যোগাযোগের সভ্যতার বিঘ্ন না ঘটায়; সেটা শিখতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)