ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চোখধাঁধানো এক ফাইনাল, যেখানে নির্ধারিত হয় নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে একবারই এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন কোনো ফাইনাল ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই ব্যতিক্রমী আসর ছিল ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১২ বছর পর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে ফের শুরু হয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। নানা দেশের অংশগ্রহণ বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩টি দল টুর্নামেন্টে খেলেছিল।
প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এরপর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দলকে নিয়ে নকআউট পর্বের পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হয় একটি ফাইনাল রাউন্ড-রবিন লিগ। অর্থাৎ চারটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিল, এবং সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
এই ব্যবস্থার ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একবারের মতো কোনো ফাইনাল ম্যাচ ছাড়াই নির্ধারিত হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে হারিয়ে ও পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থেকে উরুগুয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। ব্রাজিল-উরুগুয়ের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি পরে ‘মারাকানাজো’ নামে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়।
এদিকে, সেই বিশ্বকাপে এশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে ভারতের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রস্তুতিগত সংকটের কারণে তারা শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপটির বিশেষত্বের মূল কারণ ছিল এর ফাইনালবিহীন ফরম্যাট, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে আছে।