তসলিম শিমুল
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। এবার শুরু আসল খেলা। নকআউট মানেই ভুলের চূড়ান্ত খেসারত। ৮টা ম্যাচই এখন ফাইনাল। চলুন এক নজরে দেখি রাউন্ড অফ সিক্সটিনের সবগুলো লড়াই।
৪ জুলাই রাত ১১টা: কানাডা বনাম মরক্কো
স্বাগতিক কানাডা। ঘরের মাঠ, ঘরের দর্শক। গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউটে উঠেছে তারা। ডেভিড, বুচান, ইস্তাকিওদের নিয়ে কানাডা এবার স্বপ্ন দেখছে কোয়ার্টারের।
অন্যদিকে মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। আফ্রিকার গর্ব। হাকিমি, জিয়েচ, ওনাহিরা আবারও প্রমাণ করেছেন তারা বড় দলকে হারাতে জানেন। নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে এসেছেন তারা।
প্রেডিকশন: এটা হবে শৃঙ্খলা বনাম গতি ও কৌশলের লড়াই। কানাডার সাপোর্ট বিশাল ফ্যাক্টর। কিন্তু মরক্কোর অভিজ্ঞতা আর বিশ্বকাপ নকআউট খেলার অভিজ্ঞতা এগিয়ে রাখবে। কঠিন লড়াই শেষে মরক্কো ১-০ গোলে জিতে যাবে। (এই লেখা যখন আপনি পড়ছেন তখন প্রকৃত ফলাফল হয়তো জেনে গেছেন)
৪ জুলাই রাত ৩টা: ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে
গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স। এমবাপ্পে, গ্রিজমান, কামাভিঙ্গা- পুরো দলটাই আগুন। গ্রুপ পর্বে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছে তারা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে। তাদের শক্তি ডিফেন্স আর কাউন্টার।
প্রেডিকশন: কাগজে-কলমে ফ্রান্স অনেক এগিয়ে। প্যারাগুয়ে ৯০ মিনিট ধরে আটকে রাখতে পারবে না। ফ্রান্স ২-০ জয় নিয়ে কোয়ার্টারে যাবে।
৫ জুলাই রাত ২টা: ব্রাজিল বনাম নরওয়ে
ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগোদের ব্রাজিল ছন্দে আছে। সাম্বা ফুটবলের ঝলক দেখা যাচ্ছে আবার। নরওয়ের ভরসা একটাই, এরলিং হালান্ড। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে তারা এসেছে। কিন্তু হালান্ডকে আটকাতে পারলেই নরওয়ে শেষ।
প্রেডিকশন: ব্রাজিলের আক্রমণ নরওয়ের রক্ষণ ভাঙবেই। হালান্ড একটা গোল পেলেও ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে জিতবে।
৬ জুলাই সকাল ৬টা: মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড
ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে মেক্সিকো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। এল ত্রির সমর্থকদের গর্জনে মেক্সিকো সিটি কাঁপবে। কিন্তু ইংল্যান্ডের সামনে কেইন, বেলিংহ্যাম, ফোডেন। গ্রুপে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।
প্রেডিকশন: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। মেক্সিকো প্রথমে গোল দিলেও ইংল্যান্ড অভিজ্ঞতায় ২-১ গোলে ম্যাচ বের করে নেবে।
৬ জুলাই রাত ১টা: পর্তুগাল বনাম স্পেন
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আইবেরিয়ান ডার্বি। রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসরা আগুন ফর্মে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস আকাশে।
প্রেডিকশন: ৫০:৫০ ম্যাচ। মাঝমাঠের লড়াই ঠিক করবে ফল। আমার মনে হয় ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত যাবে। শেষে স্পেন ২-১ গোলে জিতে যাবে। রোনালদোর কান্নায় শেষ হবে আরেকটা অধ্যায়।
৭ জুলাই সকাল ৬টা: যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম
যুক্তরাষ্ট্র স্বাগতিক। পুলিসিক, ওয়েয়া, রেইনা- তরুণ দলটা দৌড়াচ্ছে। বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর শেষ সুযোগ। ডি ব্রুইনা, লুকাকু, কোর্তোয়া। সেনেগালের সঙ্গে ৩-২ এর নাটকীয় জয় তাদের মনোবল বাড়িয়েছে।
প্রেডিকশন: হোম অ্যাডভান্টেজ যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখবে। কিন্তু বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতা বড় ফ্যাক্টর। টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়াবে। বেলজিয়াম ৪-৩ গোলে জিতবে।
৭ জুলাই রাত ১০টা: আর্জেন্টিনা বনাম মিসর
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে তারা আবার ফেভারিট। কিন্তু মিসর! মোহাম্মদ সালাহ হ্যামস্ট্রিং নিয়ে পেনাল্টি গোল করে দেশকে প্রথমবার নকআউটে তুলেছেন। চোখের জলে ভাসা সেই রাতের পর মিসর উড়ছে।
প্রেডিকশন: মেসি বনাম সালাহ। স্বপ্নের লড়াই। আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি বেশি। মিসর লড়বে, সালাহ গোলও পাবেন। তবু আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টারের টিকিট কাটবে।
৭ জুলাই রাত ২টা: সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া
ইউরোপের শৃঙ্খলা বনাম দক্ষিণ আমেরিকার শিল্প। সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্স শক্ত। কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ আর জেমস রদ্রিগেজ ফর্মে। ঘানাকে হারিয়ে তারা এসেছে। এসপ্রিলা-ভালদেরামার দেশটা ২০১৪ এর পর আবার স্বপ্ন দেখছে।
প্রেডিকশন: গোল কম হবে। ১-১ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শেষে টাইব্রেকারে কলম্বিয়া ৫-৪ গোলে জিতে যাবে। লা ত্রিকোলরের স্বপ্নযাত্রা চলবে।
[প্রেডিকশন লেখকের নিজস্ব]