স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
লিওনেল মেসি হয়তো চীনের মহাপ্রাচীর দেখেছেন, বার্লিন প্রাচীরের ইতিহাসও তার অজানা নয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি যে প্রাচীরের সামনে বারবার থমকে গেলেন, তার নাম ভোজিনিয়া।
বিশ্বকাপ শুধু ট্রফি জয়ের গল্প লেখে না, জন্ম দেয় নতুন নায়কেরও। এবারের আসরে সেই নায়ক নিঃসন্দেহে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। যার অসাধারণ দৃঢ়তা, অবিশ্বাস্য সব সেভ আর সংগ্রামী জীবনগাথা বিশ্ব ফুটবলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
যেখানে অনেক ফুটবলার কৈশোরেই বিশ্বমঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করেন, ২৩-২৪ বছর বয়সেই ইউরোপের বড় ক্লাবের তারকা হয়ে ওঠেন, সেখানে ভোজিনিয়ার পেশাদার ফুটবলে পথচলা শুরুই হয় ২৫ বছর বয়সে। গত মৌসুমে খেলেছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে। সেই চুক্তির মেয়াদও শেষ। অর্থাৎ বিশ্বকাপ কাঁপানো এই গোলরক্ষক এখনো কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন।
মাঠের বাইরের জীবনটাও ছিল কঠিন সংগ্রামের। আর্থিক সংকটের কারণে নিজের মাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে খেলা দেখানোর সামর্থ্য ছিল না তার। ভিসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে চোখের জল ফেলেছিলেন ভোজিনিয়া। পরে নানা সহায়তায় তার মা গ্যালারিতে এসে ছেলের খেলা দেখেছেন, সাহস আর প্রেরণা জুগিয়েছেন। সেই আশীর্বাদ যেন আরও অদম্য করে তুলেছিল এই গোলরক্ষককে।
স্পেনের বিপক্ষে করেছিলেন সাতটি দুর্দান্ত সেভ। আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেললেন তিনি। আটটি অসাধারণ সেভে একের পর এক গোলের সুযোগ ফিরিয়ে দেন। লিওনেল মেসির অন্তত তিন-চারটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তিনি। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি হোক কিংবা দুর্দান্ত ফ্রি-কিক- প্রতিবারই আর্জেন্টিনা অধিনায়কের সামনে যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভোজিনিয়া।
ম্যাচের ফলাফল হয়তো ইতিহাসের পাতায় একদিন মলিন হয়ে যাবে। কিন্তু ভোজিনিয়ার লড়াই, তার অবিশ্বাস্য সেভ আর জীবনের সংগ্রাম বিশ্বকাপের স্মৃতিতে অনেক দিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত শুধু গোলের খেলা নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্পও।
ভোজিনিয়া হয়তো ট্রফি জেতেননি, কিন্তু কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জিতে নিয়েছেন। এ বিশ্বকাপ তাকে মনে রাখবে এক অদম্য প্রাচীর হিসেবে, যে একদিন লিওনেল মেসিকেও দীর্ঘ সময় গোলবঞ্চিত রেখেছিল।