স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
যশোরে পুলিশ অফিসার পরিচয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি সোনার অলংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিল্লাল হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড় থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আটক বিল্লাল হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের খোদাবক্স সরদারের ছেলে। ভুক্তভোগী নারীর (৩০) বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের শংকরপুরের বাসিন্দা। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।
কয়েক মাস আগে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোর মাধ্যমে বিল্লাল হোসেন নামে ওই ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে কথা হতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে বিল্লাল হোসেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী নারী এতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে বিল্লাল হোসেন শংকরপুরে ওই নারীর বাড়িতে একাধিকবার যাতায়াত করেন এবং নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। তাছাড়া পুলিশ অফিসার হিসাবে বিশ্বাস করাতে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান বিল্লাল হোসেন। তাকে ঢাকার বিভিন্ন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর বিয়েতে রাজি হলে নানা কৌশলে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি সোনার অলংকার হাতিয়ে নেন বিল্লাল হোসেন। এরপর বিল্লাল হোসেন তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান শণাক্তের পর গত শুক্রবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড় থেকে তাকে আটক করেন এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল হোসেনে নারীর সাথে প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।