বাগেরহাট প্রতিনিধি
সরকার যখন দেশব্যাপী জলাশয় রক্ষা ও কৃষি উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, ঠিক তখনই বাগেরহাটে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি সরকারি খাল মাটি ফেলে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভরাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে রবি মোল্লা নাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এর ফলে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে স্থানীয় মৎস্যচাষি ও কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ঘটনাটি বাগেরহাট সদর উপজেলার খালকুলিয়া ও বৈখালী গ্রামের সংযোগ খালের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালকুলিয়া ও বৈখালীর সংযোগ খালটি ওই অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যঘেরের লাইফলাইন। কিন্তু রবি মোল্লা নামে ওই ব্যক্তি খালের একটি বড় অংশে মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলায় পানি নিষ্কাশন ও ওঠানামার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল ভরাট করতে নিষেধ করায় রবি মোল্লা উল্টো এলাকাবাসীকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিয়েছেন।
রবি মোল্লা বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে খুব প্রভাবশালী ছিলেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও তিনি সেই প্রভাব ও পেশীশক্তির জোরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
রবি মোল্লা অবশ্য দাবি করেছেন, ওই জায়গাটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং সে কারণেই তিনি তা ভরাট করছেন।
তার এ দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস। সম্প্রতি ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে জায়গাটি পরিদর্শন করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, এটি শতভাগ সরকারি খালের অংশ।
মাছচাষি আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘দুইবার মাছ ছেড়েছি, দুইবারই পানির অভাবে মাছ মারা গেছে। আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। প্রশাসন এই দখলদার রবি মোল্লার উপযুক্ত বিচার করুক আর আমাদের ন্যায্য পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিক।’
স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী শেখ লিটন জানান, তারা রবি মোল্লাকে খাল ভরাট করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো কথা শোনেন না। এখন পানির অভাবে ঘেরের মাছ মারা যাচ্ছে। সরকার নিচ্ছে খাল কাটার উদ্যোগ, আর এদিকে খাল ভরাটের মতো কাজ করছেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সরকারি জায়গা বা খাল অবৈধভাবে দখল করার অধিকার কারো নেই। তদন্তে এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যারা এই অবৈধ দখলের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।