ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্ট্রাইকারদের তালিকা করলে কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেইন কিংবা লাউতারো মার্তিনেজের নামই আগে আসে। কিন্তু নীরবে, প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই আবারও প্রমাণ করছে, বড় তারকা না হয়েও বড় মঞ্চে নায়ক হওয়া যায়।
স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের সন্তান ওয়ারজাবালের মাতৃভাষা ইউস্কারা, যা বিশ্বের অন্যতম স্বতন্ত্র ভাষা। মাঠের বাইরের মতো মাঠের ভেতরেও তিনি ব্যতিক্রম। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে খুব কমই থাকেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তেমন চটক নেই। অথচ গোল করার ক্ষেত্রে তার ধারাবাহিকতা ঈর্ষণীয়।
স্পেনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার দাভিদ ভিয়া সম্প্রতি ওয়ারজাবালের প্রশংসা করে বলেন, রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে খেলায় তিনি প্রাপ্য আলোচনাটা পান না। কারণ ক্লাবটি নিয়মিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোর কেন্দ্রে থাকে না। তবে ভিয়ার মতে, ওয়ারজাবাল একজন অসাধারণ স্ট্রাইকার, যার সামর্থ্য অনেক বেশি।
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চার গোল করেছেন ওয়ারজাবাল। গোলসংখ্যায় তিনি আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সমান কাতারে। নকআউট পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। স্পেন যদি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়, তাহলে ওয়ারজাবালের গোল পাওয়া হবে অন্যতম বড় শর্ত।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রিয়াল সোসিয়েদাদ ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবের জার্সি গায়ে তোলেননি এই ফরোয়ার্ড। ইচ্ছা করলে বড় ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ক্লাবের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে ফ্রান্সেস্কো তত্তি, পাওলো মালদিনি কিংবা রায়ান গিগসদের মতো এক ক্লাবেই দীর্ঘ ক্যারিয়ার কাটানো ফুটবলারদের কাতারেই নিজের নাম লিখিয়েছেন ওয়ারজাবাল।
মজার বিষয় হলো, গোল করার সহজাত ক্ষমতার বীজ রোপিত হয়েছিল ফুটবলে নয়, হকির মাঠে। ছোটবেলায় নিয়মিত হকি খেলতেন তিনি এবং সেখানেই গোল করার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
এক সাক্ষাৎকারে ওয়ারজাবাল বলেছিলেন, ‘ছোটবেলায় হকি খেলতাম। তখন নিজের ভেতর একটা কণ্ঠস্বর শুনতাম, যা বলতো- একটা গোল মিস হলে কিছুই শেষ হয়ে যায় না। পরের সুযোগে আবার গোল আসবে।’
সেই বিশ্বাসই আজও তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার ভাষায়, ‘আমি গোলের গন্ধ বুঝতে পারি। ভেতরের সেই কণ্ঠস্বর এখনো বলে, ঠিক জায়গায় পৌঁছাও, গোল আসবেই।’
বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার রেকর্ডও দারুণ ওয়ারজাবালের। গত তিনটি ইউরোপীয় বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি শিরোপাও জিতেছে স্পেন। তাই এবার বিশ্বকাপেও স্প্যানিশদের বড় আশা এই নীরব ঘাতককে ঘিরেই।
দাভিদ ভিয়ার বিশ্বাস, তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নেবেন। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করবেন ওয়ারজাবাল। স্পেনও ঠিক সেটাই দেখতে চায়- নীরব এই গোলশিকারির আরেকটি বড় মঞ্চ কাঁপানো মুহূর্ত।