যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হলান্ড: পুনর্জাগরণ, উত্তরাধিকার আর শেকড়ের টান

তসলিম শিমুল

, যশোর

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুলাই,২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
হলান্ড: পুনর্জাগরণ, উত্তরাধিকার আর শেকড়ের টান

জন্ম ইংল্যান্ডের লিডস শহরে। শৈশব কেটেছে ইংলিশ ফুটবলের আবহে। বাবা আলফি হলান্ড খেলতেন লিডস ইউনাইটেডে, তাই ছোটবেলা থেকেই ক্লাবটির প্রতি ছিল আর্লিং হলান্ডের অগাধ ভালোবাসা। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি বেছে নেওয়ার সময় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন হৃদয়ের টানে- ইংল্যান্ড নয়, পিতৃভূমি নরওয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার।

জন্মসূত্রে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল হলান্ডের। অনেক ফুটবলারের মতো চাইলে তিনি ইংল্যান্ডের জার্সিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন। কিন্তু নিজের শেকড়কে অস্বীকার করেননি। বাবার দেশ নরওয়ের লাল জার্সিই হয়ে ওঠে তার পরিচয়ের প্রতীক।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে আবেগের একটি বড় কারণও রয়েছে। আর্লিংয়ের বাবা আলফি হলান্ড ছিলেন নরওয়ে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ খেলেছিল যে নরওয়ে দল, সেই প্রজন্মের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি ইউরোপের এই দেশটি। একের পর এক বাছাই পর্বে ব্যর্থতা, হতাশা আর অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়েই কাটিয়েছে প্রায় তিন দশক।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন আর্লিং হলান্ড ও তার সতীর্থরা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নরওয়েকে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরিয়ে এনে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। বাবার প্রজন্ম যেখানে শেষ করেছিল, ছেলের প্রজন্ম সেখান থেকেই যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।

এটি শুধু একটি দলের বিশ্বকাপে ফেরা নয়, বরং একটি পরিবারের দুই প্রজন্মের ফুটবল ইতিহাসের এক আবেগঘন সংযোগ। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বাবা আলফি হলান্ড, আর ২০২৬ সালে ২৮ বছর পর একই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড।

বিশ্বফুটবলে গোল করার অসাধারণ দক্ষতার জন্য হলান্ড আগেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু দেশের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরিয়ে আনার এই কীর্তি তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও জাতীয় গৌরবকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া তার সিদ্ধান্ত আজ নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ভাইকিংদের নতুন প্রজন্মের এই উত্থানের কেন্দ্রে আছেন আর্লিং হলান্ড। আর তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি নরওয়ের ফুটবলের পুনর্জাগরণ, একটি পরিবারের উত্তরাধিকার এবং একজন ফুটবলারের শেকড়ের প্রতি অটুট ভালোবাসার গল্প।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)