যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সরকারনির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপিজি

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল,২০২৬, ১২:০০ পিএম
সরকারনির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপিজি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে নৈরাজ্যের মধ্যেই এলপি গ্যাস নিয়েও দেখা দিচ্ছে জটিলতা। যশোরে সরকারনির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

বিক্রেতারা বলছেন, একদিকে সরবরাহ কম, অন্যদিকে ডিলার পয়েন্ট থেকেই গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের দাম ধরা হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৩০ টাকা পর্যন্ত। ফলে খুচরা বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।

গত ২ এপ্রিল সিলিন্ডারজাত ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস।

গ্রাহকেরা জানিয়েছেন, কোম্পানিভেদে তাদেরকে এক হাজার ৯৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে সিলিন্ডারপ্রতি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এখন রান্নাঘরে জ¦ালানি হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার একচেটিয়া।

রেজওয়ান হক বাপ্পি নামে একজন ভোক্তা বলেন, ‘হুট করে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। গ্যাস ছাড়া রান্নাবান্না বন্ধ। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে।’

আরিফুল ইসলাম নামে আরেক ভোক্তা বলেন, ‘আমরা ফ্লাট বাসায় ভাড়া থাকি। এখানে গ্যাসে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আবার বিদ্যুতের চুলা আমার নেই। এখন গ্যাসের এই বাড়তি দাম দিয়ে কেনার মতো টাকাও নেই। তাহলে আমার মতো মানুষদের কী উপায় হবে?’

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গেল দু’দিন চাহিদার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ পাচ্ছেন তারা। একইসাথে ডিলার পয়েন্ট থেকেই দাম ধরা হচ্ছে বেশি।

গ্যাস ব্যবসায়ী সোহেল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী সোহেল হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। মাঝে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আবার সমস্যা তৈরি হয়েছে। ডিলার পয়েন্ট থেকে আমরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছি না। আমাদের চাহিদা যদি শতাধিক হয়, পাচ্ছি ১৫ থেকে ২০ সিলিন্ডার।’

ডিপো থেকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বলে দাবি তার।

ফিরোজ এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মহিদুল হাসনাত বলেন, ‘সরকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। কিন্তু বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো সেই দাম অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করছে না। আবার কোম্পানি যে দাম নির্ধারণ করছে, আমাদের সেই দামে কিনতে হচ্ছে। এখন বেশি দামে কিনে আমরা তো কম দামে বিক্রি করতে পারবো না। যার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

যশোর এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা সুবর্ণভূমিকে বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী খুচরা ব্যবসায়ীরা গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছেন না। কোম্পানিগুলো সরবরাহ বাড়ালে খুচরা বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছে। ফলে মানের ভেদাভেদ না থাকলেও এক এক কোম্পানির গ্যাসের দাম একেক রকম। এবিষয়ে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন বলেও দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত না মানার প্রবণতা রয়েছে বড় কোম্পানিগুলোর। এর প্রভাব পড়ে প্রান্তিক পর্যায়ে। প্রতিদিনই খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সরকারি সিদ্ধান্ত ওপর থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে খুচরা পর্যায়ের এসব বিশৃঙ্খলা থাকবে না।’

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় আমদানিকারদের খরচ বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের।

যশোর জেলা এলএপিজি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে; যার আঁচ আমাদেরও লেগেছে।’ তবে সংকটের মধ্যেও অতিরিক্ত মজুতের সুযোগ নেই বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুল্ক কমানোসহ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)