যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেড়েছে মুরগি মাছের দাম, চাপে ভোক্তারা

যশোরের বাজারে সয়াবিন তেল আক্রা

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল,২০২৬, ০১:০০ পিএম
যশোরের বাজারে সয়াবিন তেল আক্রা

বোতলজাত সয়াবিন তেল হঠাৎ করে বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

অভিযোগ উঠেছে, তদারকির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি কোম্পানির একটি সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, যাতে নতুন করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। রমজান মাসের শুরু থেকেই ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে সরবরাহ সীমিত রাখার এই প্রক্রিয়া চালু ছিল বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বর্তমানে যশোরের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় অনুপস্থিত। বাধ্য হয়ে ক্রেতাদের খোলা তেল কিনতে হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে ২০৫ থেকে ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তেল নয়, প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২৩০, রুই ৩৫০ এবং চিংড়ি ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। মোটা চাল (স্বর্ণা) ৫৬-৫৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬৮ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মসুর ডালের দাম ১০৫ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে খাদ্য তালিকা থেকে মাছ-মাংস কমিয়ে দিচ্ছেন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করছেন।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যা পাওয়া যাচ্ছে তাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, তারা পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পরিবহন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে।

বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্য ও নিম্নবিত্তরা। আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন মাসের মাঝামাঝি থেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হচ্ছে। কেউ কেউ সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। মাংসজাত আমিষ গ্রহণের পরিমাণ কমে ডিম ও সবজিতে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।

বড়বাজারে আসা ক্রেতা রায়হান হোসেন বলেন, ‘বোতলজাত তেল পাচ্ছি না। খোলা তেল কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।’

শহরের পালবাড়ি এলাকার মাহমুদা বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগেও বোতলজাত তেলের সংকট ছিল না। ১৮৯ টাকায় বোতলজাত তেল কেনা যেত। এখন তো ২০০ টাকায়ও খোলা তেল মিলছে না।’

যশোর ক্যন্টনমেন্ট কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ফেরদৌস জান্নাত বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট ও বাজারে কৃত্রিম দাম বৃদ্ধির কারণে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হচ্ছে। সরকারের কার্যকর তদারকি এবং যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে তা ভেঙে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল করা দরকার।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)