রাসেল মাহমুদ
, যশোর
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তরমুজের অন্যতম বৃহৎ মোকাম যশোরের রূপদিয়া বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। এই মোকাম ছেয়ে গেছে সমুদ্র-উপকূলের তরমুজে। এই মৌসুমে মোকামটিতে ৪০-৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এক সময় রূপদিয়া ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর তরমুজ ও বাঙ্গি ফলতো। নানা কারণে স্থানীয় কৃষকরা এখন আর আগের মতো ব্যাপক হারে তরমুজ চাষ করেন না। তবে চাষ কমলেও রূপদিয়ার গুরুত্ব কমেনি বিন্দুমাত্র। বরং চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবাদে রূপদিয়া বাজারটি আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান তরমুজের পাইকারি মোকাম বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
রূপদিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখানে ওঠা তরমুজের বড় অংশই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আসা। পটুয়াখালীর গলাচিপা, কুয়াকাটা, এমনকি দুর্গম রাঙাবালীর ক্ষেত থেকেই বেশি তরমুজ আসছে। উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত চাষি এখন তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য রূপদিয়াকে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এখানকার স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কৃষকদের মাঝে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারছেন।
রূপদিয়া বাজারে তরমুজের ব্যবসাকেন্দ্রিক ৪০টিরও বেশি ছোট-বড় অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে এই বাজারকে ঘিরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকার ও ওজনভেদে তরমুজ তিনটি প্রধান শ্রেণি বা লটে কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে বড় লট (৮-১২ কেজি) প্রতি ১০০ পিস ২২ হাজার টাকা, মাঝারি লট ১৪ হাজার টাকা এবং ছোট আকারের তরমুজ পাঁচ থেকে ১১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের প্রকৃত পূর্ণতা আসতে আরও দিন দশেক সময় লাগবে, যখন খুলনার দাকোপ, বাজুয়া ও কয়রা অঞ্চলের তরমুজ বাজারে আসতে শুরু করবে।
রূপদিয়া বাজারে পাইকাররা আসছেন কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইলসহ দূরবর্তী এলাকা থেকে। তরমুজ বেচাকেনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে স্থানীয় প্রায় ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দিনভর তরমুজ লোড-আনলোডের কাজে ব্যস্ত থাকা শ্রমিকরা দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটির সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় আড়তদার ও হাট মালিকদের বলিষ্ঠ ভূমিকা। সরকারি ইজারা মূল্য বাড়লেও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় তারা খাজনার হার বাড়াননি। বড় ট্রাকে ১৫শ টাকা এবং ছোট যানে সাতশ’ থেকে এক হাজার টাকা খাজনার বিনিময়ে নিরাপদে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন চাষিরা। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও হাটের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ব্যবসায়ীদের বাড়তি স্বস্তি প্রদান করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতায় রূপদিয়ার এই তরমুজের মোকামের অবয়ব ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা হাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বিশ্বাসের।