প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর
বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত এমন এক প্রতিবেশী, যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই; আবার এমন এক প্রতিবেশীও, যার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে পাশ কাটানোর সুযোগও নেই। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সেই বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এই সফর তাই নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন ভারসাম্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতের একটি পরীক্ষা।
শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল দুই দেশের সম্পর্কের দৃশ্যমান অসমতা। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আওয়ামী লীগ সরকার ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেছে। ভারতও শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশ থেকে সড়ক, রেল, নৌ ও বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতা কাজে লাগিয়ে ভারত বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথ এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সুবিধা পেয়েছে। ফলে ভারতের জন্য বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত সেতুতে পরিণত হয়।
প্রশ্ন হলো, এর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেয়েছে?
বাংলাদেশ অবশ্য নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ট্রানজিট সুবিধা পেয়েছে। নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ব্যবস্থা বহু পুরনো এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। ভুটানের সঙ্গেও ট্রানজিট চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে।
বাংলাদেশ থেকে নেপাল বা ভুটানে পণ্য পাঠাতে হলে ভারতের ভূখণ্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। নির্দিষ্ট রুট, কাস্টমস ব্যবস্থা, পরিবহন-শর্ত এবং ভারতের অনুমোদনের কাঠামোর মধ্য দিয়ে সেই বাণিজ্য পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের মতো নিজের ভূখণ্ডে অন্য দেশের পণ্য পরিবহনের ব্যাপক ও বহুমাত্রিক সুবিধা পায়নি; বরং নেপাল-ভুটানমুখী বাংলাদেশের বাণিজ্য অনেকাংশেই ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
সুতরাং দুই দেশের ট্রানজিট সুবিধাকে সমান বলে দাবি করা যায় না।
এখানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে- বন্ধুত্বের নামে সুবিধা দেওয়া যাবে, কিন্তু সেই সুবিধা হতে হবে পারস্পরিক।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি বড় বিতর্ক সীমান্ত হত্যাযজ্ঞ। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অভিযোগ বহু বছর ধরেই দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম অস্বস্তিকর বিষয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ক্ষমতারোহণের পর শুরু হওয়া এবং এখনও চলতে থাকা ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারা ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নাগরিকত্ব যাচাই কিংবা দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের এই অবৈধ প্রচেষ্টাকে সীমান্তবর্তী জনতাকে সাথে নিয়ে রুখে দিচ্ছে; যা শেখ হাসিনার আমলে ছিল কল্পনাতীত। অনেকের ধারণা, সীমান্তে বিডিআর যাতে বিএসএফ-কে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়, তার জন্য ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের’ মতো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়ে তৎকালীন বিডিআর-কে শক্তিহীন করে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক শক্তি যদি দৃঢ়তা দেখাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যে এখনও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলায় সক্ষম, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার সাক্ষ্য দেয়।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘পুশ-ইন’-এর বহু প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। এই প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তার কিছু সময় আগেও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে।
একটি রাষ্ট্র যদি কাউকে তার ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করতে চায়, তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া রয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় কাউকে এনে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নমুনা হতে পারে না।
আর এই জায়গাতেই তারেক রহমান সরকারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করার বড় সুযোগ। কারণ ভারত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, ব্যাপারটি একপাক্ষিক নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক। ভারতকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তারা পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে, তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ওপর সরাসরি অথবা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে ক্ষতির শিকার হয়েছে ভারতই। বাংলাদেশ তো বিনা পয়সায় কোনো পণ্য আনে না। ফলে তার জন্য খোলা রয়েছে সারা বিশ্ব। ভারতপন্থি যেসব বুদ্ধিজীবী বয়ান সৃষ্টি করেছিলেন যে, ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বা ভিসা প্রদান আটকে দিলে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হবে, বাংলাদেশের রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে বেঘোরে মরবে, ব্যাপারটা যে আদৌ তেমন না, ইতিমধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টি শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে উবে গিয়ে একতরফা অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। পরে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দেখিয়ে দিয়েছেন, সম্মান-মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল হতেই হবে- এমন চিন্তা পুরোপুরি ভুল।
দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের প্রশ্নটি আরও পুরনো ও গভীর। বাংলাদেশ ও ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। অথচ সব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিস্তা তার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ। আর গঙ্গার পানিবণ্টনে ১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। ফলে ফারাক্কা এখন আবার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কেন্দ্রীয় আলোচনায় ফিরে আসার স্বাভাবিক কারণ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি নদীর পানি নয়। এটি উজান-ভাটির সম্পর্ক, কৃষি, পরিবেশ, নদীর নাব্য, জীববৈচিত্র্য এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন।
তাই ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন যদি হয়, সেটি যেন শুধু পুরনো চুক্তির আনুষ্ঠানিক পুনরাবৃত্তি না হয়। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানির স্বার্থকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতার আলোকে একটি ন্যায্য ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রশ্ন। বাংলাদেশের আদালত হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণও চেয়েছে। কিন্তু ভারত এখনো তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি। শুধু তা-ই নয়, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রম বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তাদের প্রশ্ন, দালাই লামার ওপর যদি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা থাকে, তো শেখ হাসিনার ওপর একই ব্যবস্থা থাকবে না কেন? চীন শক্তিধর দেশ বলে তাকে সমীহ করবেন আর বাংলাদেশ তুলনামূলক ছোট দেশ বলে শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ঘোলাটে করতে মদত দেবেন- এটা তো সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা।
দিল্লির কাছে এটি হয়তো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ের বিষয়। ঢাকার কাছে এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এই পার্থক্যটি ভারতকে বুঝতে হবে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল গভীর- এটি গোপন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু শেখ হাসিনা এখন আর বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। অতএব দিল্লির নীতিতেও পরিবর্তন আসতেই হবে।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথা ভেঙে ভারতকে বাদ দিয়ে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। বার্তাটি খুব সহজ- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন আর একক কোনো প্রতিবেশীর ওপর নির্ভরশীল হবে না। ভারতের ঝানু কূটনীতিবিদরা বার্তাটি খুব ভালোভাবেই ধরতে পেরেছেন, এবং তারা তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে দৃশ্যত মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারেক রহমানকে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই আমন্ত্রণ কেবল সৌজন্য নয়; দিল্লির পক্ষ থেকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহেরও জোরালো ইঙ্গিত।
তারেক রহমানের জন্য এখন প্রশ্ন হলো, তিনি দিল্লি যাবেন কি না, তা নয়; যদি যান, কী নিয়ে যাবেন এবং কী নিয়ে ফিরবেন?
শুধু করমর্দন, আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং যৌথ ছবির জন্য দিল্লি সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। সফর তখনই অর্থবহ হবে, যখন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে থাকবে। তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ভারতের অবস্থান; বাংলাদেশের চাওয়া অনুযায়ী প্রত্যর্পণ প্রশ্নে অগ্রগতি; সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা; পুশ-ইনচেষ্টা বন্ধ; নদ-নদীর পানিবণ্টন ও ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থের নিশ্চয়তা; তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদী নিয়ে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি; দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য; ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ যে ট্রানজিট ও বন্দর সুবিধা দেয়, তার বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্যও সমতুল্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
এগুলো কোনো ভারতবিরোধী দাবি নয়। এগুলো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাভাবিক জাতীয় স্বার্থ।
একথা সত্য যে, ভারতের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চরমভাবে ভারতবিরোধী হয়ে উঠেছেন। একথা ভারতের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী-কলামিস্টরা তাদের লেখায় নির্দ্বিধায় প্রকাশ করে চলেছেন। তবে এমন অবস্থায়ও বাংলাদেশ কখনও ভারতবিরোধিতাকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি বানায়নি। বরং হাসিনা সরকার যেভাবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে নিজ দেশের স্বার্থকে গৌণ করে ফেলেছিল, ড. ইউনূস ও তারেক রহমান সেই অসম অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন ও করছেন।
প্রতিবেশী বদলানো যায় না- এটি সত্য। কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলানো যায়।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা দরকার। কারণ ভৌগোলিক বাস্তবতা, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সীমান্ত, নদী এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ- সবকিছুই দুই দেশকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
কিন্তু সুসম্পর্ক আর আনুগত্য এক জিনিস নয়।
বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু হতে পারে, ভারতের সহযোগী হতে পারে, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারও হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে বাংলাদেশ।
তারেক রহমান যদি দিল্লি সফর করেন, তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হবে দিল্লিকে সন্তুষ্ট করা নয়; বরং এমন একটি সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে ভারত বুঝবে, বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চায়, সহযোগিতা চায়, আঞ্চলিক সংযোগ চায়; কিন্তু বিনিময়ে সমতা, মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থও চায়।
বাংলাদেশকে আর নিজ ‘প্রভাববলয়ের দেশ’ হিসেবে নয়, নিজস্ব স্বার্থ ও সিদ্ধান্তের অধিকারসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর সেই নতুন সম্পর্কের সূচনা হতে পারে। সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর অবশ্যই হতে হবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে, মাথা নত করে নয়- এটাই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।