সম্পাদকীয়
ভোরের আলো ফুটতেই প্রকৃতি ও তার সাথে মানুষ সাজছে নতুন সাজে। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হতে চলেছে বঙ্গাব্দ ১৪৩২। বাংলা ভাষাভাষীর প্রাণের এই উৎসব শুধু পঞ্জিকার পাতা ওলটানো নয়, বরং পুরনোকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করার অঙ্গীকার। এ বছর এই অঙ্গীকার আরও দৃঢ়, আরও অর্থবহ। কারণ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের গ্লানি, পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের পর্ব শেষে অবশেষে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ফিরেছে দেশ। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র কয়েক মাস হলো। সেই নতুন সম্ভাবনার সূর্যোদয়ের মাত্র কিছুদিনের মাথায় আমরা পা দিতে যাচ্ছি নতুন বাংলা বছরে।
গত কয়েক বছর ধরে নানা সংকট ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদী শাসক ও তার অনুচর, অনুগতদের অত্যাচার, নিপীড়ন, লুণ্ঠনের ফলে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়াসহ নানা অপকর্ম মানুষকে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। কিন্তু বাঙালি কখনো দমে থাকে না। এ দেশের মাটি ও মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা যে কোনো বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে জানে। তারা ঠিকই অপশাসনকে দূর করে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের মেয়াদ পেরিয়ে এবারের নববর্ষ তাই এক ব্যতিক্রমী তাৎপর্য বহন করে। এটি নতুন সূচনার বছর, এটি আশার বছর, এটি উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে যাত্রার বছর।
এ বছরের নববর্ষ উদযাপন করবো আমরা প্রাণখোলা আনন্দ নিয়ে। পাশাপাশি প্রতিজ্ঞা করবো, আর কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথা তুলতে না দেওয়ার, দেশের মাটিতে শোষণ ও বঞ্চনার কালো ছায়া চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার, নতুন সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনা ও সৃজনশীল সহযোগিতায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তার অনুগামী যুদ্ধবাজদের দুনিয়া অস্থির করে তোলার ষড়যন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমাদের হৃদয়ের সমস্ত শুভ কামনা ঢেলে দেবো নিপীড়িত জাতির কল্যাণে। নতুন বছরে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে- এই পাহাড়সম প্রত্যাশা রাখছি শুরুর দিনেই।
এই আনন্দঘন মুহূর্তে সুবর্ণভূমির পক্ষ থেকে আমরা আমাদের সকল পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও নববর্ষের প্রাণঢালা অভিনন্দন। আশা রাখি, নতুন বছর সবার জীবনে নিয়ে আসবে সুখ, সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি। পহেলা বৈশাখ হোক সব অশুভের বিদায়ের প্রতীক।
শুভ নববর্ষ।