যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইসলামে মালিক-শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার

মুফতি আরিফ ফয়সাল শ্যামনগরী

প্রকাশ : শুক্রবার, ১ মে,২০২৬, ১০:০০ এ এম
ইসলামে মালিক-শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকায় এক শ্রমিক সমাবেশে পুলিশ আক্রমণ করে। সেখানে বেশ ক’জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় অনেকে। সেই দিনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় এই ‘শ্রমিক দিবস’।

প্রতি বছর এই দিনে নানা স্লোগান থাকে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর নানা বাণী থাকে। বিভিন্ন সংগঠন নানান দাবি-দাওয়া পেশ করে। এরপর ফলাফল কী হয়? ফলাফল তথৈবচ। শ্রমিককে বেতন-বোনাসের জন্য আন্দোলন করতে হয়। সেই আন্দোলন থেকে কখনো রক্তাক্ত ফিরতে হয়। কখনো ফিরতে হয় সহকর্মীর লাশ কাঁধে। কখনো ফিরতে হয় নিজেই লাশ হয়ে। অধিকার আদায় করতে গিয়ে আরো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় নিরীহ শ্রমিকেরা। ।

মূলত শ্রমিক দিবস কাগজে-কলমে একটি আন্তর্জাতিক দিবস হলেও শ্রমিকের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি। শ্রমিকরা মালিকদের নানা রকম অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন। আজও শ্রমিক শোষণ ও নিপীড়ন বন্ধ হয়নি। নিশ্চিত হয়নি শ্রমিকের বেঁচে থাকার অধিকার। মালিকরা শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এখনো পিছিয়ে আছেন। শ্রমিক লাঞ্ছনার ঘটনা অহরহ ঘটছে। শ্রমের মূল্য, শ্রমিকের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রায়ই শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। ফলে এখনো ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা নানা দেশে সংগ্রাম করছেন। শ্রমের প্রকৃত মূল্যের জন্য শ্রমিকদের রাস্তায়, কারখানায় বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এর মূল কারণ আদর্শিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাব। শ্রমিকরাও যে মানুষ এবং তাদেরও যে উন্নত জীবন-জীবিকার অধিকার আছে তা বস্তুবাদী আদর্শগুলো নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি। লক্ষ করলে দেখা যায়, যারা শ্রমিকের জন্য আইন ও বিধান তৈরি করছেন, তারা নিজেরা শোষক ও ধনিক শ্রেণির অথবা মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষায় তৎপর। দুনিয়ার সাধারণ রীতি অনুযায়ী শ্রমগ্রহীতার চেয়ে শ্রম বিনিয়োগকারীরা সর্বদা বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকেন। তাদের ঘাম ঝরানো শ্রমে মালিক পুঁজির পাহাড় গড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নানাভাবে নিগৃহীত হন। অথচ ইসলামের নবী বিশ্বনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেওয়া শ্রমিকের অধিকারগুলো সঠিকভাবে চর্চিত হলে, না শ্রমিকদের কষ্ট করতে হয়, না পশ্চিমের ব্যর্থ অনুকরণ করতে হয়

ইতিহাস সাক্ষী, দেড় হাজার বছর আগে মানবতার চরম দুর্যোগে আলোকবর্তিকা হয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কুরআন-সুন্নাহর কোমল স্পর্শে মানবতা জেগে উঠেছিল। ঘুম ভেঙে মানবতা দেখেছিল পৃথিবীর চারপাশ আলোয় আলোয় ভরা। সেই বিবরণ অনেক দীর্ঘ। সেই আলোর দিশা পেয়েই পথহারা মানুষ ছুটে এসেছিল ইসলামের সুশীতল ছায়ায়। মজলুমরা পেয়েছিল মুক্তি। বঞ্চিতরা পেয়েছিল তাদের প্রাপ্য অধিকার।

মানুষ সামাজিক জীব। সবাই সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। কেউ একা চলতে পারে না। ধনী-গরিব একে অপরের কাছে নানান প্রয়োজনে ছুটে যায়। কেউ শ্রম দেয় অর্থের জন্য, কেউ অর্থ দেয় শ্রম নেওয়ার জন্য। এই প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক হলেও অর্থের প্রয়োজন শ্রমিককে সমাজের চোখে ছোট করে তোলে। এই ছোট ভাবনাটাই শ্রমিককে অবহেলা ও নিগ্রহের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলাম এসে এ ধারণাকে বিলুপ্ত করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দেন, ‘তোমাদের সেবকেরা তোমাদের ভাই। তাদেরকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন। কারও অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যা খায় তাকেও যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকেও যেন তা পরায়। তোমরা তাদের ওপর কষ্টকর কাজ চাপিয়ে দিও না। যদি দিতেই হয়, তাহলে তাদেরকে সহযোগিতা করো।’ (সহিহ বুখারি)

ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হবে পিতা-সন্তানের ন্যায়। নিজের পরম আত্মীয়ের মতোই শ্রমিকের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের আপ্যায়ন করা, শ্রমিকের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি মালিকের খেয়াল রাখা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শ্রমিককে তার প্রাপ্য পূর্ণভাবে যথাসময়ে প্রদান করাও মালিকের একটি প্রধান দায়িত্ব। অনেক সময় শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিকগণ উপযুক্ত মজুরি না দিয়ে যৎসামান্য মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করে। এ ধরনের মালিকদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘‘মহান আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তাদের মধ্যে একজন হলো, ‘যে শ্রমিকের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার পূর্ণ মজুরী প্রদান করে না।”

অপরদিকে একজন শ্রমিকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, চুক্তি মোতাবেক মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদন করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ওই শ্রমিককে ভালোবাসেন, যে সুন্দরভাবে কার্য সমাধা করে।’

কিন্তু কোনো কোনো শ্রমিক মালিকের কাজে ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন করে থাকে, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এজন্য তাকে কিয়ামতের মাঠে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আর যদি শ্রমিক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে, তাহলে তার জন্য নবীজি দ্বিগুণ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘তিন শ্রেণির লোকের দ্বিগুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো, ‘ওই শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক আদায় করে এবং আল্লাহর হকও আদায় করে।’

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যেই সত্তার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ তার কসম! যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, হজ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকতো, তাহলে আমি শ্রমিক হিসাবে মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতাম।’

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাদেরকে সন্তানের মতো মর্যাদা দাও (আদর-যত্ন করো)। তোমরা যা খাও তাদেরকেও খাওয়াও। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৯১)

এসব ঘোষণার পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে যাবে না। (প্রাগুক্ত)

চাকর বা কর্মচারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের শাস্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেন, আবু মাসউদ আনাসারি রা. বলেন, ‘‘আমি একদিন গোলামকে মারছিলাম। পেছনে কাউকে বলতে শুনলাম, ‘মনে রেখো আবু মাসউদ, আল্লাহর ক্ষমতা তোমার ওপর এর চেয়েও বেশি।’ পেছনে ফিরে দেখি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে। বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে আল্লাহর ওয়াস্তে আজাদ। নবীজি বললেন, ‘তুমি এমনটি না করলে আগুন তোমাকে পুড়িয়ে দিতো কিংবা বলেছেন, স্পর্শ করতো।” সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৫৯

বর্তমান বাংলাদেশে গরমের অভিজ্ঞতা যা হচ্ছে, তা ভয়াবহ। হিটস্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রোদে বের হলে মনে হয়, চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। একটু ছায়া, একটু পানির জন্য দেহ-মন কাতর হয়ে ওঠে। একটু ভাবুন তো, দুনিয়ার সূর্যের তাপেরই যখন এমন তীব্রতা, পরকালে সূর্যের তীব্রতা কী ভয়াবহই না হবে। যখন সূর্য থাকবে মাত্র আধা হাত ওপরে, ওই সময়ে ছায়ার জন্য মানুষ কী করবে, ওই কঠিন সময়ে আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষের প্রতিপক্ষ হবেন। তাদের একজনের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে শ্রম নিয়ে শ্রমিকের পারিশ্রমিক আদায় করে না।

শ্রমিকের শ্রম নেওয়ার পর ইসলাম বলে, যত দ্রুত সম্ভব পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও। নবীজি সেই দ্রুততা কতটা হবে তা খুব সুন্দর করে ব্যক্ত করেছেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দাও।’ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৪৩)

কাজ করতে গিয়ে মানুষের নানা রকম ভুল হয়। ভুল যে মানুষের কতভাবে হতে পারে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এক সাহাবি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কর্মচারীকে কত বার মাফ করবো?’

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব। সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করেন। নবীজি কোনো উত্তর দেননি। তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে নবীজি বলেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার ভুল করলে ৭০ বার ক্ষমা করো।’ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫১৬৪

ইসলামের এই শিক্ষা গোটা আরব জাহানকে বদলে দিয়েছিল। জাহেলি যুগে যেখানে আরবরা গোলাম-শ্রমিকদের সঙ্গে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো আচরণ করতো, সেখানে আরবরা গোলাম ও শ্রমিকদের বুকে টেনে নিলো। নিজে যা খেতো, তাই খেতে দিতো। নিজে যা পরতো, তাই পরতে দিতো। গোলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অনুশোচনায় গোলামকে আজাদ করে দিতো কিংবা মনিব গোলামকে সমান প্রতিশোধ নিতে আহ্বান জানাতো।

সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন রা.-এর ছেলে মুআবিয়া বলেন, ‘‘আমি একবার আমাদের এক গোলামকে থাপ্পড় দিয়েছিলাম। বাবা আমাকে এবং গোলামকে ডাকলেন। গোলামকে বললেন, ‘আমার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে।” সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫২৬৭

আজ মে দিবস। তাই চতুর্দিকে শুধু শ্রমিকের অধিকার নিয়েই আওয়াজ-উচ্চারণ। সেই আওয়াজ-উচ্চারণের প্রভাব শ্রমিকের জীবনে কতটুকু তা আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই। যারা দ্বীন-শরিয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি, তারা হা-হুতাশ করি, আহ এতো সুন্দর ইসলামের বিধান ছেড়ে আমরা কোথায় চলেছি। শ্রমিককে ইসলামের দেওয়া এতো এতো অধিকার শুনে হয়তো কেউ ভাবতে পারেন, মালিকের অধিকার কোথায়?

হ্যাঁ, ইসলাম মালিকের অধিকারও সমানভাবে দিয়েছে। ইসলাম যেহেতু সর্বজনীন, তাই সবার কথাই বলে। সবার কথাই ইসলামে আছে। শ্রমিক দিবসে মালিকের অধিকার নিয়ে একটি হাদিসই বলবো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ভৃত্য যখন তার মনিবের কল্যাণ কামনা করে এবং আল্লাহর ইবাদত সুন্দর করে করে, তাহলে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।’ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫১৬৯

উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের যে বিষয়টি মনে রাখা আবশ্যক তা হলো, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে। সুতরাং মে দিবসে যেকোনো ব্যক্তির যানবাহন চালানোর বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খোলা রাখারও অধিকার আছে। তাতে বাধাদানের অধিকার কারো নেই। কিন্তু আমাদের দেশে মে দিবসে যদি কেউ যানবাহন চালায় বা দোকানপাট খোলা রাখে তাহলে উচ্ছৃংখল কিছু শ্রমিককে গাড়ি ভাঙচুর করতে এবং দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দিতে দেখা যায়। যা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে হরতাল-ধর্মঘটও বর্জন করা আবশ্যক।

ইসলাম মানুষের জীবনব্যাপী অধীনস্তদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতে বলে। তাই আমরা যারা শ্রমিকের অধিকারকে দিবসে বন্দী করে ফেলি। তাদের উচিত পশ্চিম থেকে চোখ ফিরিয়ে কুরআন-হাদিসে নিবদ্ধ করা; তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সুন্দর হয়ে ধরা দেবে।

আল্লাহর দেওয়া মহান নিয়ামত ইসলামকে আমরা অনাদরে ফেলে রাখলেও কিছু কিছু অমুসলিম ইসলামের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পেরেছিল। মাহত্মা গান্ধি হিন্দু ছিলেন। তার পরও তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কুরআনের মাহাত্ম্য। তিনি বলেছিলেন, ‘জঘন্য দাসপ্রথা মেটানোর জন্য জরুরি হলো, হিন্দু শাস্ত্রকে কুরআন দিয়ে বদলে দেওয়া।’ (দ্র. মাওলানা মুজীবুল্লাহ নদভী রাহ.-কৃত ইসলামী কানুনে মেহনত ওয়া উজরত, পৃষ্ঠা ১৫১, মাসিক আল কাউসার সূত্রে)

ইসলাম শুধু মালিক ও শ্রমিকের মর্যাদা অধিকারের নসিহত করেই কাজ শেষ করেনি। বরং নবীজির সিরাতে ও সাহাবিগণকে তাদের জীবনে বাস্তব প্রয়োগের দ্বারা প্রকৃত হক ও অধিকার প্রদান করে কিয়ামত পর্যন্ত শান্তি ও স্থিতিশীলতার সোনালি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। মূলত শান্তি, শৃঙ্খলা ও সভ্যতার সব আয়োজন আল্লাহ মুসলমানদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাই এখন কেবলই দরকার আমাদের সুমতি ও সাদরে গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের মালিক-শ্রমিক সবাইকে একে অপরের হক আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন

লেখক: ইমাম ও খতিব, নলডাঙ্গা রোড জামে মসজিদ, যশোর

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)