সম্পাদকীয়
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বোরো ধান চাষিরা এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের একদিকে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়েছে রাসায়নিক সার, অন্যদিকে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিতে কৃষকরা কীভাবে লাভবান হবেন বা এমনকি উৎপাদন খরচও তুলতে পারবেন, তা চিন্তার বিষয়।
অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি রোধে যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, তাদের কর্মকর্তারা মাঠেই যান না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ সারেন তারা। কৃষকদের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। উল্টো সার ব্যবসায়ীদের অবাধ যাতায়াত ও আনাগোনা থাকলেও কৃষকদের নেই অফিসগুলোতে প্রবেশের অধিকার। এটা আমলাতন্ত্রের বহুল সমালোচিত চরিত্রেরই অংশবিশেষ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার সংবাদকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন; যা থেকে তার সাধারণ কৃষকদের প্রতি কেমন আচরণ, তা সহজেই অনুমেয়। প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে কৃষকের দুর্দশা লাঘবের বদলে সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে জনমুখী ও চলতি সমস্যার সমাধানের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। যেমন, সারের দাম যাতে ব্যবসায়ীরা সরকারনির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে বাধ্য হন, তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোকে বাধ্য করতে হবে। কৃষি অফিসের দোরগোড়ায় কৃষকের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও কৃষকের কাছে যেতে বাধ্য করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটিই কিন্তু এই পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল কাজ। ধানের ন্যূনতম মূল্য সরকারিভাবে ঘোষণার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ ও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের অভিযোগ শোনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেলও গঠন করা যেতে পারে।
আমাদের খাদ্যের উৎপাদক কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত না করলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। কালিগঞ্জের ঘটনা নিঃসন্দেহে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি সতর্ক সংকেত। কৃষি কর্মকর্তাদের আচরণের পরিবর্তন ও বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা হোক নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।