যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

খাল খনন: ভূ-উপরিস্থ পানির স্তর বাড়লে অনেক লাভ

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
খাল খনন: ভূ-উপরিস্থ পানির স্তর বাড়লে অনেক লাভ

ফারাক্কা বাঁধের নির্মম বিরূপ প্রভাবে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমের বিস্তীর্ণ জনপদের প্রাণপ্রকৃতি আজ চরম বিপর্যস্ত। একসময় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা ছিল নদীকেন্দ্রিক; সেচ, মাছ ধরা, নৌপথে চলাচল ও পানি সরবরাহ ছিল নদীনির্ভর। এখন সেসব নদীর অনেকগুলিই মৃতপ্রায়, বিলুপ্তির পথে। পানি নেই, তাই দখল আর আবর্জনায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্রোতধারা।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাওয়া কৃষি উৎপাদনের খরচ চড়িয়ে দিচ্ছে। সাগর থেকে উঠে আসা লোনা পানি এখন আর শুধু উপকূলে সীমাবদ্ধ নেই, উত্তরের দিকের উর্বর জমিগুলো পর্যন্ত গ্রাস করছে। পানীয় জলের অভাবে উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে মানুষ অভিবাসী হচ্ছে। লাখো মানুষের কষ্টের শেষ নেই। জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে ওঠায় দুর্যোগের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

ঠিক এমন দুঃসময়ে যশোরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। খাল খননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হলে, একদিকে যেমন ফারাক্কা বাঁধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে, অন্যদিকে কৃষক ও জেলেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

একটি মাত্র খাল খনন যদি সঠিক পরিকল্পনায়, অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে ও টেকসই পদ্ধতিতে করা যায়, তাহলে তা বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভ পুনর্ভরণে সহায়তা করবে। ফলে লবণাক্ততা কমবে, সেচ খরচ কমবে এবং নদীর পানির স্বাভাবিক স্রোত কিছুটা হলেও ফিরতে পারে। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হবে, জীববৈচিত্র্য ফিরে আসবে।

খাল খননের বিস্তৃতি হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমের পুনরুজ্জীবনের মহাপরিকল্পনার সূচনা। এর সঙ্গে প্রয়োজন আন্তঃখাল সংযোগ, নদী খনন, ভেজালমুক্ত শিল্পনির্গত পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ফারাক্কার অপকারিতা যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে একসময়ের সবুজ ও প্রাণবন্ত এই জনপদ আবার জেগে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে কেবল রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং তা বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। এক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারী বা পরিবেশবিদদের টেকনিক্যাল সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

আমরা আশা করছি, এই খাল খনন পর্বতসম সমস্যার প্রথম পাথরটি সরাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমের মানুষ জেগে আছে। এখন দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে পূর্ণরূপ দেওয়া। আশা করি, সরকার সেদিকেই হাঁটছে।

ফারাক্কার অভিশাপ যদি দূর না-ও হয়, তবে তার ক্ষতি কমানো আমাদের হাতেই। খাল খনন সেই হাতকে শক্তিশালী করুক।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)