স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যশোর উন্নয়নের নানা সুপারিশ তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যশোরে কৃষি ও সাংষ্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
সোমবার যশোর ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অন্যতম বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কোনো দাবি জানাতে চাই না, তবে যশোরের সন্তান হিসেবে জেলার প্রয়োজনগুলো তুলে ধরা তার দায়িত্ব।’
গত ১৯ বছরে যশোরের গ্রামীণ অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাকা রাস্তা থেকে কয়েক কদম ভেতরে গেলেই অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। যশোর পৌরসভায় অল্প বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার যশোর ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি একথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার কিছু অংশে দীর্ঘদিনের ভবদহ জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে বেগম খালেদা জিয়া ওই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবে চেষ্টা করেছিলেন।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারকে সর্বাধিক রাজস্ব দেওয়া এই বন্দরে এখনো কাক্সিক্ষত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বেগম খালেদা জিয়ার সময়ের পর আর বড় কোনো অবকাঠামো যুক্ত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে যশোর কৃষিনির্ভর জেলা উল্লেখ করে বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাতে কৃষকরা সারা বছর ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রি করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যশোরের গদখালির ফুল শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে পরিচিতি পাক, সেটিই সবার প্রত্যাশা। ফুলচাষিদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি খুলনা-যশোর, যশোর-ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া এবং নড়াইল-যশোর সড়কের বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শেষদিকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে একটি সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ও সরকারিকরণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও সারাদিন যশোরে কাটানোয় জেলাবাসী কৃতজ্ঞ। পরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে যশোর জেলা বিএনপির ৬৮ জন নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন। সারা দেশে যখন হাতে গোনা কয়েকটি ইউনিট রাজপথে সক্রিয় ছিল, তখন যশোর ছিল অন্যতম শক্ত ঘাঁটি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে যশোরবাসীর গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার মূল্যায়ন করা যাবে না, কারণ যশোরবাসী রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে।