স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, শত নির্যাতন, গুম-খুন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও যশোরে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। যশোর বিএনপির ভিত অনেক গভীরে গ্রোথিত, তাই সাময়িক সংকটে এই সংগঠন দুর্বল হবে না, বরং নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সোমবার যশোর ঈদগাহে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নার্গিস বেগম বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালোত্তীর্ণ দর্শন সামনে রেখেই জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমি বিনয়ের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যেদিন জাতীয়তাবাদী দলের বীজ বপন হয়েছিল, সেদিন যশোর থেকেই কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে দুইজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তারা হলেন মরহুম আফসার আহমদ সিদ্দিকী এবং তরিকুল ইসলাম। অন্য কোনো জেলা থেকে তখন এমন প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
তিনি বলেন, সেই যে যশোরের মাটিতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বীজ রোপিত হয়েছিল, শত নির্যাতনেও এই দল এখানে হার মানেনি। সামরিক শাসনের সময় ১৭ জন নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। সেই দুঃসহ নির্যাতনের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও মঞ্চে উপস্থিত আছেন এডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক ও আব্দুস সালাম আজাদ। তারা দলকে ছেড়ে যাননি, লড়াই চালিয়ে গেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের নেতা ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যশোরের ৮৬ জন নেতাকর্মী হারিয়ে গেছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী মামলার শিকার হয়েছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন। কিন্তু আমরা রাজপথ ছাড়িনি।
তিনি আরও বলেন, যখন আমাদের নেতাকর্মীরা লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ হয়েছেন, তখন দোকানদার ভাইয়েরা আশ্রয় দিয়েছেন, পথচারীরা লুকিয়ে রেখেছেন। সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসা ও সাহসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নার্গিস বেগম বলেন, আমরা একটি মন্ত্র নিয়ে লড়াই করেছি, মাথা দেবো কিন্তু নতি স্বীকার করবো না। যারা আজ যশোর বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন, তারা ভুল করছেন। আমরা অতীতে বহু ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছি, এখনো করবো।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একঝাঁক তরুণ নেতৃত্ব উঠে এসেছে। মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অগণিত তরুণ কর্মী আজ মাঠে রয়েছেন। আগামী দিনে তারাই নেতৃত্বের আসনে বসবেন। তাদের জীবনের ১৭টি মূল্যবান বছর হারিয়ে গেলেও তারা এখনো জাতীয়তাবাদী দলের পতাকা বহন করছে।
দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দের ঐক্য অটুট আছে। যশোর জেলা বিএনপি যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা আলো অন্ধকারেই ফিরে আসে’।