যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

যশোর ইনস্টিটিউট: ঐতিহ্য ধারণ করে এগুতে হবে আধুনিকতার পথে

প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
যশোর ইনস্টিটিউট: ঐতিহ্য ধারণ করে এগুতে হবে আধুনিকতার পথে

যশোর ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের বেসরকারি পর্যায়ের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সংগঠনটির নাম উচ্চারিত হতেই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে এক বিশাল ঐতিহ্যের চিত্র। উপমহাদেশের দ্বিতীয় ও বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক লাইব্রেরি, ঘূর্ণায়মান মঞ্চ, প্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরনো পাণ্ডুলিপিসহ বিভিন্ন ভাষার বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার, নাট্যকলা সংসদ, টাউন ক্লাব- সব মিলিয়ে এক বৃহৎ পরিমণ্ডল। ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের প্রথম জনসভার স্মৃতিবিজড়িত মাঠ ও মঞ্চ স্বাধীনতার ইতিহাসে যশোর ইনস্টিটিউটকে জড়িয়ে রেখেছে।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে সদস্যদের প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতি ও ভোট প্রদান এই সংগঠনটির গতিশীলতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। দুই সহস্রাধিক ভোটারের উপস্থিতি, উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন সদস্যদের এই প্রাণোচ্ছ্বাস নিশ্চয় সংগঠনকে এগিয়ে নিতে তাদের প্রাণিত করবে।

তবে বহু ইতিবাচক দিকের বিপরীতে কিছু সমালোচনা রয়েছে যশোর ইনস্টিটিউটকে নিয়ে। নতুন কমিটির ফোকাস হওয়া উচিত এই সমালোচনাকেন্দ্রিক। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ এই সংগঠনের সদস্যপদ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নাগরিকদের প্রশ্নের শেষ নেই। সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ গোষ্ঠীর একচ্ছত্র প্রভাব, যোগ্যদের বাদ পড়া এবং অনুপযুক্তদের সদস্য করার অভিযোগ করেন অনেকেই। আবার বৃহৎ এই সংগঠনের উইংগুলো ঠিকমতো কার্যকর না হওয়াও পীড়াদায়ক। ইনস্টিটিউটের উইং ঐতিহ্যবাহী টাউন ক্লাবের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। পাঠাগারে পাঠকসংখ্যা দিন দিন কমছে। পাঠকদের উপযুক্ত পরিবেশে লেখাপড়া করার সুযোগ সৃষ্টিতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। নতুন বই, বিশেষ করে গবেষণামূলক বই সংগ্রহে অনীহা কাজ করে বলে অভিযোগ আছে। আবার লাইব্রেরির সন্নিকটে অপরিকল্পিতভাবে নতুন মঞ্চ স্থাপন ও সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আওয়াজ সাধারণ পাঠক ও গবেষকদের কাজের বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও সীমিত। বইয়ের ক্যাটালগ অনলাইনে নেই। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করতে মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় ‘আমেরিকান কর্নার’ করা হলেও তা এখন কার্যত পরিত্যক্ত। পাঠকক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা এখন সময়ের দাবি।

অথচ যশোর ইনস্টিটিউট এই অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক অহংকার ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সুখ্যাত। কিন্তু সেই সুদিন কি আমরা ধরে রাখতে পারছি? একসময় এখানে রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার, আলমগীর সিদ্দিকী, অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন, অধ্যাপক আমিরুল আলম খান, অধ্যাপক মো. ইয়াকুব আলী, অধ্যাপক কংকর গুপ্তের মতো স্বনামধন্য মানুষেরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজকের নেতৃত্বের উচ্চতা উল্লিখিত ব্যক্তিদের তুলনায় নস্যি।

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন এই প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসবেন, তখন তার দৃষ্টি কেবল ঐতিহ্যের দিকেই নয়, বর্তমান দুরবস্থার দিকেও পড়বে নিশ্চয়। সমৃদ্ধ একটি পাবলিক লাইব্রেরি যদি পাঠকশূন্যয় ভোগে, তবে সেই দৃশ্য যশোর ইনস্টিটিউট তো বটেই, শিক্ষিত জাতির জন্যও লজ্জাজনক।

নতুন নির্বাচিত কমিটির সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব। শুরুতেই প্রয়োজন সদস্যপদ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, টাউন ক্লাব ও নাট্যকলা সংসদের মতো শাখায় প্রাণ ফেরানো, লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিক বই সমৃদ্ধ করে পাঠক ও গবেষকবান্ধব করা, এবং অনুষ্ঠানের কারণে পাঠকদের অসুবিধা হয়- এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে শব্দনিরোধক ও আলাদা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

যশোর ইনস্টিটিউট যদি তার সোনালি অতীত ফিরে পায়, তবে কেবল সংগঠনটিই নয়, গোটা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। সেই প্রত্যাশা নিয়ে আমরা নতুন কমিটির সাফল্য কামনা করছি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে গেলে আধুনিকীকরণ ও গণমুখিতা দুটোই জরুরি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)