স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়িতে তরুণ-তরুণীকে মারপিট করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পহেলা বৈশাখের বিকেলে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়, সাগরদাঁড়িতে স্থানীয় একটি চক্র প্রায়ই এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে।
তবে, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে, পুলিশ বলেছে যাদেরকে হেনস্তা করা হয়েছে তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারপরও অভিযুক্তদেরকে খোঁজা হচ্ছে।
সাগরদাঁড়ি মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ বলেছেন, ‘বিষয়টি দেখলাম। খুবই দুঃখজনক।’
স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের দুপুরে এক তরুণ ও এক তরুণী পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত স্থান গোলঘরে বসেছিলেন। এসময় বনি হোসেন নামে সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক ভ্যানচালক তাদেরকে সেখানে বসে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করেন।
এক পর্যায়ে তারা ওখানে ‘অনৈতিক কাজ করছেন’ অভিযোগ তুলে তাদেরকে মারপিট করেন বনি। তিনি আরও কিছু যুবককে জড়ো করলে তারাও ওই তরুণকে মারপিট করেন।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দর্শনার্থী ওই তরুণকে কয়েকজন যুবক কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। তাদের মধ্যে বাপ্পী রেজা ও সৌরভ নামে দুজনকে চিনতে পেরেছেন এলাকাবাসী।
সঙ্গীকে এভাবে মারতে দেখে তরুণীটি যুবকদের একজনের পা জড়িয়ে ধরেন। তাতেও মন গলেনি নির্যাতনকারীদের। স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর কর্মচারী আব্দুস সামাদকেও সেসময় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ভিডিওতে।
সাগরদাঁড়ি মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ বলেছেন, এটি খুবই অনভিপ্রেত। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। এখানে যারা বেড়াতে আসেন তাদেরকে নানাভাবে নাজেহাল করা হয়, ভয়ভীতি দেখানো হয়, এমনকী তাদের কাছ থেকে অর্থ-সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সাগরদাঁড়িতে একটি পর্যটন মোটেল আছে। কিন্তু, ভয়ে সেখানে কেউ থাকতে চান না। এমনকী স্বামী-স্ত্রীরাও এখানে থাকতে গেলে ওই দুর্বৃত্তদের অত্যাচারের শিকার হতে হয়। ভাবখানা এমন যে তাদেরকে বিয়ের কাবিননামা সাথে নিয়ে ঘুরতে হবে।
কবি খসরু পারভেজ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন শিল্প সঠিকভাবে গড়ে উঠবে না।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক রোকসানা খাতুন বলেন, ‘থানার ওসি সাহেবকে বলেছি। পুলিশ অলরেডি ঘটনাস্থলে গেছে। অপরাধীদের খোঁজা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। কেউ যদি অনৈতিক কিছু ঘটায় তার জন্য আইন আছে। আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটি শেষ হলে ডাকবাংলোর প্রহরীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন থেকে ঘটছে অভিযোগ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এর আগে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শহিদুল ইসলাম বলেছেন, যাকে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি। তার পরও অপরাধীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।