সম্পাদকীয়
যশোরের জেনারেল হাসপাতালের গেটের কাছে বহুলবিতর্কিত ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠানকেও এই অভিযানে সিলগালা করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির অপকর্ম নিয়ে সুবর্ণভূমিতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত/প্রচারিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন যশোর জেনারেল হাসপাতালে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছে বলে ধরে নেওয়া অসঙ্গত হবে না। এই অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সমাধান বলে মনে করলে ভুল হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি হাসপাতালের গায়েই বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা এসব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দালালনির্ভর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রামীণ রোগীদের শিকার করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখে। নামমাত্র খরচে চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলে পরে গলা কাটে। এর মধ্যে আবার ডিএনএ ডায়াগনস্টিকের প্রতারণা একটু ভিন্ন মাত্রার। তারা ‘দশ টাকায় চিকিৎসা’র মতো লোভনীয় ফাঁদ পেতে রোগীদের পকেট খালি করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃহস্পতিবার অভিযানে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্রে ঘাপলা পেয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন। যদিও একথা আগাম বলে দেওয়া যায় যে, এই সিলগালা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আইনের ফাঁক-ফোকর গলে ঠিকই প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু হবে। প্রতিষ্ঠান চালু হোক- এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে জালিয়াতির মাধ্যমে ফতুর করে দেওয়ার কায়কারবার চালানো যেকোনোভাবে রুখতে হবে। ব্যবসা করুন নৈতিকতার সাথে। কোনো ধরনের অনৈতিকতা অন্তত চিকিৎসা ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া সম্ভব না।
তাই প্রয়োজন কেবল সিলগালা নয়, বরং চিরতরে এসব প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক কারবার ফিরিয়ে আনার পথ বন্ধ করা দরকার। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এটা খুবই সম্ভব।
আমরা দাবি করবো, জেনারেল হাসপাতালের আশপাশের সকল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্ছেদের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে দালালচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রতারণার শৃঙ্খল ভাঙতে হলে সরকারি হাসপাতালের সেবার মানও বাড়াতে হবে। রোগীরা যখন আস্থা পাবেন যে, সরকারি হাসপাতালেই নামমাত্র খরচে মানসম্মত চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে, তখন দালালদের প্রলোভনে পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।