সম্পাদকীয়
যশোরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা সংকট উদ্বেগ ও শঙ্কাজনক। শিশুদের জীবন রক্ষায় ইপিআই টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা দশটিরও বেশি মারাত্মক রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এই টিকার অভাবে যশোরের অভিভাবকরা এখন মহাসংকটে পড়েছেন। জেলার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ে তাগাদা দেওয়ার পরও এখনো টিকার সরবরাহ আসেনি।
এই সংকট কেবল যশোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় টিকাদান ব্যবস্থার পদ্ধতিগত দুর্বলতারই ইঙ্গিত বহন করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদ্ধতিগত জটিলতার কথা বলে সময়মতো টিকা আমদানি করেনি। নতুন সরকারের দায়িত্ব হলো, সেই বন্ধাত্ব কাটিয়ে দ্রুত টিকা আমদানি করা। পদ্ধতিগত জটিলতার অজুহাতে শিশুদের জীবন বিপন্ন হতে পারে না।
ড. ইউনূস সরকারের অদূরদর্শিতার ফল কী হয় তা ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি। বিলুপ্তপ্রায় হাম রোগ আবার প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ঢুকে গেছে এবং তারা বাচ্চাদের টিকা দেওয়ানোর জন্য এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে ছুটছেন। হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, যক্ষ্মার মতো রোগগুলো শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, এখনকার মানুষ এটা ভালোই বোঝেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রণালয় কত দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে? সিভিল সার্জন তাগাদা দিলেও কেন সরবরাহ আসছে না? দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও উদাসীনতার কারণে কি আরও শিশু অকালে মৃত্যুবরণ করবে? নাকি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংকট মোকাবিলা করা হবে?
টিকার বর্তমান সংকট প্রাণঘাতী আকার নেবে কি না ভবিষ্যৎই তা বলে দেবে। সুস্থ প্রজন্ম গড়তে টিকাদানের বিকল্প নেই। সরকারকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে টিকা সংগ্রহ ও তা দ্রুত জেলা থেকে কেন্দ্রে পৌঁছাতে। তা না হলে সরকারের এই ব্যর্থতা অন্য সব সফলতা ম্লান করে দিতে পারে।
শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জীবন রক্ষায় বিলম্ব নয়, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।