সম্পাদকীয়
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র হত্যাকাণ্ডের একটিমাত্র ঘটনা ঘটে। সেটি হলো, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যাকাণ্ড। প্রায় ৩০০ দিন আগে ক্যাম্পাসের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। কিন্তু মৃত্যুর রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।
সাজিদ ছিলেন দক্ষ সাঁতারু। ছাত্রজীবনে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি মেডেলও অর্জন করেছেন। তাই স্বাভাবিক কারণেই পুকুরে ডুবে যাওয়ার যুক্তি মানতে পারেননি তার সহপাঠীরা। তাদের দাবি, সাজিদকে কোনো গোষ্ঠী বা চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে পুকুরে চুবিয়ে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর থেকেই ইবি শিক্ষার্থীরা সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার। ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে।
অনেকে মনে করেন, সাজিদ হত্যার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। তিনি নিশ্চয়ই এমন কিছু জানতেন যা ওই চক্র বা কোনো সংগঠনের ‘থলের বেড়াল’ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। সেই কারণেই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনা যা-ই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণের এভাবে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আরও দুঃখজনক তার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে তারা আসলে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানার অধিকার শিক্ষার্থী ও সাজিদের অভিভাবকদের রয়েছে।
সাজিদ হত্যার সুবিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত জরুরি। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। নিহতের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও গতিশীল তদন্ত প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। অন্যথায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা বাড়বে, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
একটি তরুণ প্রাণের অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির অপূরণীয় ক্ষতি। এই ক্ষত শুকাতে ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।