স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
এক হাতে কাগজ, অন্য হাতে পেনসিল। দাঁড়িয়ে নিজের হাতের ওপর রাখা কাগজে চলছে ছবি আঁকার কাজ। নেই কোনো টেবিল, চেয়ার কিংবা ইজেল। তবু কল্পনার রঙে কাগজের সাদা পাতায় ফুটে উঠছে নানা রকম ছবি।
এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে একসঙ্গে অংশ নিলেন ৬৪ জন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে যশোর শহরের লালদিঘির পাড়ে ব্রাদার টিটোস (বিটিএইচ) হোম প্রাঙ্গণে দেখা যায় এমন দৃশ্য। অনুষ্ঠান চলে দিনব্যাপী।
বিটিএইচর আর্ট ডে ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘হাতে রেখে আঁকো’ প্রতিযোগিতায় সন্তানদের সঙ্গে ছবি আঁকার আনন্দে মেতে ওঠেন অভিভাবকেরাও।
শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, শিশুদের সৃজনশীলতার বর্ণিল প্রকাশে দিনভর স্কুল প্রাঙ্গণটি পরিণত হয় এক শিল্পের গ্যালারিতে।
স্কুলের দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীরজুড়ে প্রদর্শিত হয় শিশুদের আঁকা সাড়ে চার শতাধিক ছবি। রঙ, রেখা, কল্পনা আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী শিল্প-আয়োজন।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল অভিভাবক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘হাতে রেখে আঁকো’ প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতায় প্রত্যেককে দেওয়া হয় একটি পেনসিল ও এ-ফোর সাইজের কাগজ। শর্ত ছিল, কোনো টেবিল বা অন্য অবলম্বন ব্যবহার করা যাবে না। দাঁড়িয়ে নিজের হাতের ওপর কাগজ রেখে আঁকতে হবে ছবি।
এমন ভিন্নধর্মী শর্তের মধ্যেও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কল্পনাকে ফুটিয়ে তোলেন সাদা কাগজে। ৬৪ জন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেককে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।
প্রদর্শনীতে শিশুদের আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে চারটি বিভাগে। এগুলো হলো থ্রিডি আর্ট, ক্যালিগ্রাফি, বিউটিফুল হ্যান্ডরাইটিং উইথ ইলাস্ট্রেশন এবং জেনারেল ড্রয়িং।
প্রতিটি ছবির সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
প্রদর্শনীতে বিক্রি হওয়া ছবির অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয় করা হবে সমাজসেবামূলক কাজে।
বিটিএইচ হোমের অধ্যক্ষ আলী আযম টিটো বলেন, ছবি বিক্রির অর্থের ৭০ শতাংশ পাবে আঁকিয়ে শিশু। বাকি ৩০ শতাংশ বিটিএইচ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজ ও ব্যক্তির প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে। এর মধ্য দিয়ে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজের মূল্য বুঝতে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখবে। শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শিশুদের শিল্পচর্চায় উৎসাহ জোগাতে প্রদর্শনীতে ছবি জমা দেওয়া প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে উপহার দেওয়া হয় আর্টসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসমৃদ্ধ একটি চটের ব্যাগ।
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক মামুন আজাদ।
তারা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পাশাপাশি প্রদর্শনীর জন্য ছবি জমা দেওয়া শিশুদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
শিশুদের কাছে এ আয়োজন ছিল শুধু ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা নয়; বরং নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ, কাজের স্বীকৃতি পাওয়া এবং শিল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা।