ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া বহু আঞ্চলিক শব্দ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক ভাষাকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরা গুণী গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী অনিল হাজারিকার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ।
তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। সম্প্রতি আঞ্চলিক গানের এই স্রষ্টার অসুস্থতা ও অর্থকষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এই মানবিক উদ্যোগ নেন।
অনিল হাজারিকা মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামের মৃত হাজারীলাল বিশ্বাসের বড় ছেলে। প্রায় এক হাজার ৩০০ আঞ্চলিক গানের রচয়িতা এই শিল্পী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। অর্থাভাব ও অসুস্থতার কারণে তিনি নিজ বাড়িতে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার রচিত ও পরিবেশিত অসংখ্য গান বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে এবং সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি তার এই দুঃখজনক পরিস্থিতির খবর ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থের নজরে আসলে তিনি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অনিল হাজারিকাকে ঝিনাইদহে তার চেম্বারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আজীবন চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে শিল্পী অনিল হাজারিকার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ লেখেন, ‘মানবিকতার ডাক উপেক্ষা করতে পারিনি। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় হৃদরোগ চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পী সমাজ আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।’
ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের এই অনন্য ও মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ঝিনাইদহ ও মাগুরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করা গুণী শিল্পীদের দুর্দিনে এ ধরনের নিঃস্বার্থ সহায়তা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।