স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩-এর বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
রায়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের বলেছেন, যুগ্ম জেলা দায়রা জজ রাশেদুর রহমান আদালত অবমাননা করেছেন। অপরদিকে বিচারপতি আসিফ হাসানের রায়ে বলা হয়েছে, বিচারক রাশেদুর রহমান আদালত অবমাননা করেননি। তিনি আইনবিধি মোতাবেক আছেন।
গত ২৭ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানিশেষে এ আদেশ দেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের একজন সিনিয়র আইনজীবীর মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোসা. আসমা খাতুন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মো. আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি যশোর আদালতে মো. নুরুল ইসলাম নামে অপরজনের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। মামলাটি যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে বিচারাধীন ছিল। শুনানিশেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হলেও বিভিন্ন সময়ে মোট সাতবার তারিখ পেছানো হয়। আদালতের কর্মব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে রায় দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল।
পরে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যশোরের দায়রা জজ আদালতে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে সাতবার রায়ের তারিখ পেছানোর বিষয়টি উল্লেখ করে বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়। শুনানিশেষে দায়রা আদালত মামলাটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩-এর আদালত থেকে অন্য আদালতে বদলির আদেশ দেন।
এরপর ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল বদলির আদেশের বিষয়টি বিচারক রাশেদুর রহমানকে জানানো হলে তিনি আদেশের অনুলিপি দাখিলের নির্দেশ দেন এবং বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শুনানির সময় নির্ধারণ করেন।
মামলার আইনজীবীদের দাবি, দায়রা আদালত থেকে আদেশের অনুলিপি সংগ্রহে কিছুটা সময় ব্যয় হওয়ায় তারা অনুলিপি পাওয়ার পর আদালতে উপস্থিত হন। তবে, বিচারক এক আদেশে জানান, বদলির আদেশ সম্পর্কে অবগত হলেও অনুলিপি পাওয়ার আগেই তিনি মূল মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।
এ ঘটনায় বিচারকের কার্যক্রম আদালত অবমাননার শামিল হয়েছে বলে মনে করে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি।
পরবর্তীতে আইনজীবী সমিতি রেজুলেশন করে সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুরকে আদালত অবমাননার মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেন।
অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস জানান, হাইকোর্ট বেঞ্চের দ্বিধাবিভক্ত আদেশের কারণে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রধান বিচারপতি পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।