স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর-৪ আসনের এমপি (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রছুল ও তার মেয়েকে নিয়ে শহরের নীলগঞ্জে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই মীমাংসা বৈঠক নিয়ে ততোটা সন্তুষ্ট নয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে তিনপক্ষের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে জেলা সংসদ সদস্য গোলাম রছুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য ফের দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সব পক্ষকে ছাড় নিয়ে নমনীয় ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা চলাকালে বাইরে উৎসুক নারী-পুরুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সভা শেষে পুলিশ সুপারের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফের নানা অভিযোগ করেন এবং সমাধানের বিষয়ে লিখিত চুক্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল আহসান হাবীব জানান, ওই বৈঠকে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবকরা ও স্থানীয় বাড়ির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সংসদ সদস্য, বাড়ির মালিক প্রতিনিধি, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধি তাদের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘসময় ধরে তাদের অভিযোগ শোনা হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল তার মেয়ের অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিও তাদের অনাকাক্সিক্ষত বিভিন্ন কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রক্ষিতে উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারাও সমঝোতায় সম্মতি প্রকাশ করেন।
আল-মাদরাসাতুশ শারইয়্যাহের মুতামিম মুফতি কবীর হোসাইন অভিযোগ করেন, বৈঠকে আধাঘণ্টা ধরে সংসদ সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু তাদের বা অভিভাবকদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, ওই বৈঠকে তার মেয়ের কর্মকাণ্ডের জন্য সংসদ সদস্য ক্ষমা চেয়েছেন।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুলের এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, নীলগঞ্জে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুলের বাড়ির বিপরীতে আল-মাদরাসাতুশ শারইয়্যাহ নামে একটি মাদরাসা রয়েছে। ওই মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মাদরাসাটি বন্ধ করার জন্য সংসদ সদস্যের মেয়ে অনন্যা বিভিন্ন সময় ওপর থেকে গরম পানি, ময়লা আবর্জনা, ডিমের খোসা ফেলতেন। শিশু শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে মাদরাসায় তালা মেরে বন্ধ করে দিতে যান অনন্যা। তখন একজন নারী অভিভাবকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষককে মারধর করা হয়। এরই জের ধরে অভিভাবকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন, সড়ক অবরোধ ও সংসদ সদস্যের বাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন। পরে বিকেলে পুলিশ সুপার ও বিএনপি-যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সেখানেই এলাকাবাসীর সামনে পুলিশ সুপার সমঝোতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে বুধবার সমঝোতা বৈঠকটি হয়।