খুলনা অফিস
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকার হরিণটানার আশিবিঘা এলাকায় দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলি করে ও ছুরি মেরে মঞ্জুরুল ইসলাম (২১) নামে এক তরুণকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা খোকনের ছেলে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলের ৫০০ গজ দূরে নাজমুল (১৮) নামে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।
সিআইডির টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
নগরীর ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত লবণচরা থানা এলাকায় একই স্থানে অল্পসময়ের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
কেএমপির লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। হঠাৎ সেখানে একদল যুবক এসে মঞ্জুরুলকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা মঞ্জুরুলের পেটে ছুরি মারে এবং পায়ে গুলি করে চলে যায়। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মনজুরুল তার বাবার সাথে সেন্টারিং মিস্ত্রির কাজ করতেন।
ওসি বলেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তাকে হত্যা করার বিষয়ে এক সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম আসছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরো জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজমুল নামে অপর এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখনো এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার রেজাউর রহমান জানান, আশিবিঘা এলাকার একটি গলির ভেতর এক কিশোরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিআইডির টিমকে খবর দেয়।
তিনি জানান, নিহত যুবকের নাম নাজমুল। তার বাবাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, চলতি আগস্ট মাসের ১৯ দিনে পাঁচজন খুন হলেন। এর মধ্যে ১১ আগস্ট রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামে ইটভাটার মধ্যে ফখরুল শেখ নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
চার দিন পর ১৫ আগস্ট রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনি মহল শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালি (২৫) নামের আরেক যুবককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
১৮ আগস্ট খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়ের মহল এলাকায় রাজু শিকদার নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বুধবার ১৯ আগস্ট একই স্থানে দুটি হত্যার ঘটনা ঘটলো।