স্টাফ রিপোর্টার
প্রথমে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে এবং পরে উপর্যুপরি ছুরি মেরে যশোরে আল-আমিন (২৮) ওরফে পেরেক আলামিন নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া লিচুতলা এলাকার জনৈক বাবুর সেগুনবাগানের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহত আল-আমিন যশোর শহরের বারান্দীপাড়া বউবাজার এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। তবে তিনি শহরের ষষ্টিতলাপাড়ায় শ্বশুর ইদ্রিস আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা আল-আমিনকে লিচুতলায় বাবুর সেগুনবাগান এলাকায় ছুরি মেরে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। নিহতের খালাতো ভাই হাসান মরদেহটি আল-আমিনের বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আল আমিনকে ফোন করে তার পরিচিতরা সেগুনবাগানের মধ্যে ডেকে নিয়ে যায়। আল আমিন তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে করে সেখানে গেলে প্রথমে তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় খুনিরা। চোখে প্রচণ্ড জ¦ালা-পোড়া হওয়ায় তিনি পড়ে যান। ওই সময় তাকে উপর্যুপরি ছুরি মারা হয়। এমনকি ইট দিয়ে মাথা থেঁতলেও দেওয়া হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পাশের একটি প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। সেখানে দুইজন ছিলো বলে স্থানীয় এক নারী জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মোটরসাইকেল ও পকেট থেকে একটি মোবাইলে ফোনসেট জব্দ করেছে। বাগানে রক্তের ছোপ ও একটি অংশে মরিচের গুঁড়া পড়ে ছিল। পুলিশ সেগুলোও সংগ্রহ করেছে।
নিহতের মা আয়েশা খাতুন জানিয়েছেন, তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে আল আমিনের স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে। ইমিটেশন গহনা তৈরির কাজ করতেন আলআমিন। মাস খানেক আগে শহরে চৌরাস্তায় একটি দোকান নিয়ে তিনি সেখানে কাজ শুরু করেছিলেন।
নিহতের চাচি মনি খাতুন জানান, আল আমিনকে খুন করা হয়েছে শুনে তিনি সেগুনবাগানে এসেছেন।
নিহতের বোন পাপিয়া জানিয়েছেন, আল আমিনের সাথে তার চাচতো বোন সিনথিয়ার পরকীয়া হয়। তারা বিয়েও করেছিলেন। এই নিয়ে বড় বউয়ের সাথে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে আল আমিন খুন হয়েছেন বলে তার দাবি।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, সদর পুলিশ ফাঁড়ি সদস্যসহ পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি ঘটনাস্থলে রয়েছে। এছাড়া র্যাব সদস্যরাও সেখানে গেছেন। কী কারণে এবং কারা আল-আমিনকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেনি পুলিশ। তবে তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে। লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, হত্যার সংবাদ শুনে তারা সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। আশেপাশের লোকজন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। তারাও আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ওই এলাকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লিচুবাগান এলাকার বাবুর সেগুনবাগানটি অরক্ষিত। সেখানে দুর্বৃত্তরা নানা অপকর্ম করে থাকে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা প্রতিনিয়ত দেখতে পাওয়া যায়। এরা আগেও ওই বাগানের মধ্যে মারামারি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে।