সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
টানা আট মাস ধরে বিচারক নেই সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ফলে, থেমে গেছে স্পর্শকাতর ও অতি জরুরি মামলার বিচার কার্যক্রম।
নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচারে যে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছিল দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, তা আজ চরম অভিভাবকহীনতায় ধুঁকছে। শত শত ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থী প্রতিদিন আদালতের বারান্দায় এসে শুধু পরবর্তী তারিখের সমন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালই নয়, জেলা জজশিপের আরও কয়েকটি আদালতে বিচারকের পদ শূন্য থাকায় গোটা জেলাজুড়ে এক নজিরবিহীন মামলাজট ও বিচারিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এই চরম বাস্তবতায় রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগ এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আট মাস ধরে একটি স্পর্শকাতর ট্রাইব্যুনালে বিচারক না থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে করে সংবেদনশীল মামলাগুলোর বিচার বিলম্বিত হচ্ছে, সাক্ষীর অভাব তৈরি হচ্ছে এবং অপরাধীদের পার পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে, সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার চূড়ান্তভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাধব দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান আলোচক ও বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন
নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট সৌরভ হোসেন, নেটওয়ার্কের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন লিমা প্রমুখ।
বক্তারা অবিলম্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ সাতক্ষীরার শূন্য পদগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচারক পদায়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানান।
কর্মসূচি সঞ্চালনায় ছিলেন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন।