স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক পাঁচ সংসদ সদস্যসহ (এমপি) ১১৩ জনের কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করেন শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল আলম রাজিবকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি কারবালা এলাকার খায়রুল ইসলামের ছেলে। আটক সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুলকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, কাজী নাবিল আহমেদ, রনজিত রায়, অ্যাড. মনিরুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী।
এছাড়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন, অশোক বোস, ফন্টু চাকলাদার, সাবেক মেয়র রেন্টু চাকলাদার, শেখ আতিকুর রহমান বাবু ওরফে জার্মান বাবু, রনজিৎ রায়ের ছেলে রাজীব রায়, ইয়াকুব আলী মোল্লার ছেলে ফাহিম মোল্লা, স্বপন ভট্টাচার্যর ছেলে শুভ ভট্টাচার্য, যুবলীগ নেতা মাহমুদ হাসান বিপু, কামাল হোসেন পর্বত, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রওশন ইকবাল শাহী, বাবুল ওরফে ডিস বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান সাহারুল ইসলাম, সবেক কাউন্সিলর হাজী আলমগীর কবির সুমন, সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট বাবুল, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, লুৎফুল কবির বিজু, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল। এছাড়াও জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা থেকে পালবাড়িগামী মাহমুদুল হাসানের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর সরকারবিরোধী ও নাশকতাপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি ও বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা ও পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা একটি ‘জাতীয় শোক দিবস’ লেখা ব্যানার ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানারটি উদ্ধার করে।
যশোর কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।