স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
তদবির ও ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে স্বামীকে বশীকরণের কথা বলে যশোরের এক নারীর কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দুই ভরি ১৪ আনা সোনার অলঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই নারীর স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। এ ঘটনায় তিনি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) যশোর সদর আমলি আদালতে মামলা করেছেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি যশোরের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ছয় মাস আগে আব্দুর রহমান নামধারী এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে আব্দুর রহমানসহ দুই ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। এক পর্যায়ে নারীর কাছ থেকে তার পারিবারিক নানা গোপনীয় তথ্য জেনে নেন। সরল বিশ্বাসে নারী তাদের জানান, তার স্বামী দশ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। স্বামী তার প্রতি উদাসীন এবং কোনো যোগাযোগ বা খোঁজখবর রাখেন না।
এ কথা শুনে ওই ব্যক্তি তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা আছে। তিনি ঝাড়ফুঁক ও তদবিরের মাধ্যমে স্বামীকে তার বশ করে দেবেন। এ জন্য তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। তাছাড়া অলৌকিক ক্ষমতার কাজে ব্যবহারের জন্য সোনার অলঙ্কার ও নগদ টাকা দিতে হবে। কাজ শেষে তাকে সোনার অলঙ্কার ও নগদ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ কথা বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী নারী ওই ব্যক্তির বিকাশ নম্বরে ৪০ হাজার টাকা এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে দুই ভরি ১৪ আনা সোনার অলঙ্কার পাঠিয়ে দেন। পরে ওই ব্যক্তি পারিশ্রমিকের টাকা চাইলে তিনি আবারও বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা ও অলঙ্কার দেওয়ার পর আব্দুর রহমান নামধারীর ব্যক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তার সন্দেহ হয়।
এ কারণে গত ৩০ আগস্ট তাকে ফোন করে তার দেওয়া ৭০ হাজার টাকা ও দুই ভরি সোনার অলঙ্কার ফেরত চান। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।