লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া লক্ষ্মীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোল্লা একেএম কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
আদালত আগামী ৬ অক্টোবর সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলামকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলাম বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি অবৈধভাবে বিক্রি/হস্তান্তর করে বিক্রয়লব্ধ ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল ইউনিটের প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২০টি সেলাই মেশিন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের মধ্যে ক্যাশবুক, দলিলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় রেকর্ড পরিকল্পিতভাবে গায়েব করা হয়েছে, যার কারণে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত হিসাব যাচাই করতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে উঠে আসে বিভিন্ন অসংগতি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বকালীন সময়ের নথিপত্র, হিসাব-নিকাশ, সম্পত্তি ও সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে ১৭ শতক জমি হস্তান্তর/বিক্রয়ের বিষয়টি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের স্বার্থ ও সম্পত্তি সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলার বাদী ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোল্লা এ কে এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার সুধীজন, তদন্ত কমিটির অনুমোদন এবং বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে বিদ্যালয়ের স্বার্থ, সম্পত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও অর্থের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আদালতের বিচারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি বিক্রয়, বিক্রয়লব্ধ ১৮ লাখ টাকার হিসাব, সেলাই মেশিন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের অনুপস্থিতিসহ যে সব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রকৃত সত্য আইনগত ভাবেই নির্ধারিত হবে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তে জমি বিক্রয়ের বৈধতা, বিক্রয়লব্ধ অর্থের গতিপথ, সেলাই মেশিনের বর্তমান অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কীভাবে সরানো হয়েছে— এসব বিষয় উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সিকদার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।