স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
শহরতলীর হাইকোর্ট মোড়ের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে পুনঃচার্জশিট দিয়েছে পিবিআই।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আটক পাঁচজনের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তশেষে আদালতে এ পুনঃচার্জশিট জমা দিয়েছেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার এসআই শরীফ এনামুল হক।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, মণিরামপুরের হানুয়ার গ্রামের রাজ আলীর ছেলে হাবিব, বাঘারপাড়ার সিলুমপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে রাশিদুল ইসলাম, যশোর শহরের শংকরপুরের আজহার আলীর ছেলে ফয়সাল হোসেন, শহরতলীর শেখহাটির জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে খালিদ হোসেন, বিরামপুরের খোরশেদ আলমের ছেলে আব্দুল সালাম, সদরের পুলেরহাটের বাবুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম রিপন ওরফে মিঠু, ঝিনাইদহের হরিধানী গ্রামের মকবুল হোসেন মোল্যার ছেলে ইউনুচ আলী ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার মাজিলা গ্রামের শফি মন্ডলের ছেলে জুলফিকার।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শহরতলীর শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ের অ্যাগ্রো ভবনের নিচতলায় ছিল প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের অফিস। ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট গভীররাতে একদল ডাকাত কলাপসিবল গেটের তালা কেটে অফিসের ভেতর প্রবেশ করে। তারা অফিসের কর্মচারী আবু রায়হানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চোখ বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর একটি ১৩৫ সিসির ডায়াং ব্রান্ডের মোটরসাইকেল, একটি ইয়াহামা ব্রান্ডের ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল, একটি ডেক্সটপ ও দুইটি ল্যাপটপ, একটি ক্যামেরা, একটি মোবাইলফোন ও আবু রায়হানের ব্যবহৃত কাপড়, মানিব্যাগ, ঘড়ি লুট করে।
এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিণ বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
তদন্তকালে আটক আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় তিনজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট চার্জশিট গ্রহণ শুনানিকালে চার্জশিটে ত্রুটি থাকায় তৎকালিন বিচারক মামলার পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন।
এ মামলার পুনঃতদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃচার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আগে আটক তিনজনসহ পাঁচজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এরা হলেন শেখহাটি জামরুলতলার শামীম হোসেন ওরফে কাবাব শামীম, বারান্দী মোল্যাপাড়ার রাকিব হোসেন ও সদরের বড় বালিয়াডাঙ্গার জাকারিয়া হোসেন অপু, কেশবপুরের ধর্মপুর গ্রামের সাকলাইন মুস্তাক ও মাগুরা শালিখার হাজরাহাটি গ্রামের মাসুদ মোল্যা।
চার্জশিটে অভিযুক্ত সকল আসামিকে আটক দেখানো হয়েছে।