ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ মন্ডলের (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদলের কর্মী। তিনি পবহাটি এলাকার মৃত আফজাল মন্ডলের ছেলে।
এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মন্ডলসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ঘটনায় জড়িতদের ব্যবহৃত তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৌরভ পবহাটি এলাকার আলম মন্ডলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে মুরাদ মন্ডলের পিতা আফজাল মন্ডল মারা যান। শুক্রবার বাবার মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুরাদের চাচাতো ভাই আলম মন্ডল বলে ‘তোরা ফাতেহা না করে মিলাদ করলি, ভিক্ষা করে করতে পারতি।’ এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মুরাদ তার চাচাতো ভাই আলমকে থাপ্পড় মারেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই মুরাদকে খুঁজতে থাকেন আলম মন্ডলের ছেলে সৌরভ মন্ডল। পরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মুরাদ মন্ডল (তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের) সিমেন্টের দোকানে বসে ছিলেন। সেসময় সৌরভ কয়েকটি মোটরসাইকেলে ৯/১০ জনকে সাথে নিয়ে ওই দোকানে হামলা করেন।
তারা মাথায় কুপিয়ে এবং পেটে ছুরিকাঘাত করেন মুরাদকে। সেসময় স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা তিনটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। সেসময় মুরাদকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত রয়েছে। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসেন। এদের সবার বয়সই ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এরমধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে আর আমি তিনজনকে ঠেকায়। কিন্তু যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে ওরাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু ওর ভাস্তে সৌরভকে চিনতে পারছি, বাকিদের চিনতে পারিনি।’
ঘটনাটি জানার পরেই হাসপাতালে ছুটে যান নিহতের স্ত্রী সাথী। কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। সন্তানদের কে দেখবে। যারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে তাদের যেন আল্লাহ কঠিন শাস্তি দেয়।’
নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে ঢুকেই সৌরভসহ অন্যরা মিলে মুরাদকে হত্যা করেছে। মুরাদের পেটে ছুরি মারে সৌরভ। মুরাদ আমার সাথেই যুবদল করতো।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (অপারেশন) সামছুজ্জোহা বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছি। থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।’