স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ভিওআইপির মাধ্যমে যশোর ও ভোলা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারকসহ আদালত-সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়া হতো। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন আইসিটির একজন প্রসিকিউটর ও যশোর পুলিশ। এই ব্যাপারে রোববার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। আটক ভিওআইপি ব্যবসায়ী ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের অভিযুক্ত করা হতে পারে মামলায়।
গত ২৪ নভেম্বর ভোরে যশোর শহরের পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মসজিদ গলির একটি বাড়ি থেকে বাবুল হোসেন নামে একজন ভিওআইপি ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। এই সংবাদ পেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তানভীর হাসান জোহা নামে একজন প্রসিকিউটর যশোরে এসে তদন্ত করে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। যে এলাকা থেকে ওই ভিওআইপি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছিল, সেটি যশোর শহরের আওয়ামী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
আইসিটির প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ২৪ নভেম্বর বিভিন্ন আনলাইনে সংবাদ আসে যে, যশোরে ৩১৭টি ভারতীয় মোবাইল কোম্পানির সিমকার্ডসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী। তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তথ্য পাচার করে থাকেন। একই খবর পরদিন ২৫ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তিনি তদন্তের জন্য যশোরে আসেন। কারণ এর আগে আদালতের বেশ কয়েকজন বিচারক ও প্রসিকিউটরকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টেলিফোনে হুমকি দেয়। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ‘শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার কাজ পরিচালনা করলে তাদের ক্ষতি হবে’ বলে শাসায়।
ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে আইসিটির বিচারকসহ ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ জনকে ফোন দেওয়া হয়। আবার বাংলাদেশি গ্রামীণফোন ও এয়ারটেল কোম্পানির সিমকার্ড ব্যবহার করেও একই ধরনের হুমকি দিতো দুর্বৃত্তরা। হুমকি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রধান মোহাম্মদ মর্তুজা হোসেনও (শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন) রয়েছেন। এই ঘটনায় ঢাকার শাহবাগ থানায় একাধিক জিডি করা হয়।
তানভীর হাসান জোহার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে যশোরে পাঠায় বিষয়টি তদন্তের জন্য। গত ২৭ নভেম্বর সকালে তিনি যশোরে আসেন এবং ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন। যশোর থেকে যে সব সিমকার্ড ব্যবহার করে ফোন দেওয়া হয়েছিল সেগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় চারটি ও বাংলাদেশি দুটি সিম। জব্দ করা সিমকার্ড যশোর পুলিশের কাছে আছে।
‘যশোরের মতো ভোলা থেকেও একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি দেওয়া হতো। ভোলা থেকে যে ব্যক্তি ফোনে হুমকি দিয়েছিল, তাকে ইতিমধ্যে পুলিশ আটক করেছে। সেখানেও অবৈধ ভিওআইপির ব্যবহার হয়েছিল,’ বলেন প্রসিকিউটর জোহা।
এই ঘটনায় রোববার থানা অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টেলিকমিকিউশন নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তথ্য পাচার ও অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসার অভিযোগে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সিম কার্ডসহ যশোর থেকে বাবুল হোসেন (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গত ২৩ নভেম্বর দিনগত রাতে আটক করে পুলিশ। বাবুল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নোয়ালি গ্রামের মো. চাঁদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার মসজিদ গলির খন্দকার মিলনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবৈধ ভিওআইপির ব্যবসা করতেন। পুলিশ ওই ঘর তল্লাশি করে একটি ল্যাপটপ, ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির ৩১৭টি সিম কার্ড, ভিওআইপির কাজে ব্যবহৃত একটি মেশিন, দুটি বাংলাদেশি মোবাইল কোম্পানির সিম কার্ড এবং একটি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করে।