শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের চিত্র।
সন্ধ্যা গড়াতেই শুরু হয় মাদকের বেচাকেনা, বাড়তে থাকে অচেনা মানুষের আনাগোনা। পুরো এলাকা একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।
এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে রয়েছেন একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারী মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়নের মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ।
বুধবার সরেজমিনে স্থানীয়রা এই প্রতিনিধিকে জানায়, পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের কাওসার আলীর মেয়ে কুলসুমের দোকানে সুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা আরিফুল মাদক রেখে যায়। সেবনকারীরা সেখান থেকে নিয়ে দিব্যি চলে যায়।
গত ১৮ এপ্রিল রাতে পুলিশের অভিযানে ওই গ্রাম থেকে শাহানুর মোল্লা ও তার ছেলে ফারুকুল ইসলাম বুলবুল গ্রেপ্তার হয়। এরপর এলাকায় ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সেই শূন্যতা দ্রুত দখলে নিয়ে সুজনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়ির পাশাপাশি বিড়ালাক্ষী-গোদাড়া এলাকার মাঝামাঝি একটি ঘেরের বাসা ব্যবহার করে মাদক মজুদ ও সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবার চালান বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এই নেটওয়ার্কে সরাসরি যুক্ত রয়েছে একই এলাকার তৈয়েবুর রহমান, সৌরভ হোসেন, ইয়াসিন বিড়ালাক্ষী গাজীপাড়া এলাকার ফাতেমা খাতুনসহ ৭-৮ জন। আটুলিয়া, পদ্মাপুকুর, কাশীমাড়ি ছাড়িয়ে আশাশুনীর প্রতাপনগর ও শ্রীউলা, এমনকী কয়রার বেবকাশী এলাকাতেও বিস্তৃতি ঘটেছে এই চক্রের। একটি সংগঠিত সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের হাতে।
বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। নির্দিষ্ট মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটা অন ডিমান্ড ডেলিভারি সিস্টেমে রূপ নিয়েছে।
নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে একটি স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত করে এই গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থী তাহমিদ হোসেন।
তবে এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সুজন মোল্লা। তার ভাষ্য, তিনি এই ব্যবসা থেকে সরে এসেছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি খালেকুজ্জামান বলেন, ওই এলাকার বিট অফিসার আমাকে কিছুই জানাননি। এমন কিছু থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
,